রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কুড়িগ্রামে দাম্পত্য দ্বন্দ্বে জাল কাবিননামা, মামলায় ফেঁসেছেন স্বামী

মোঃ সোলায়মান গনি

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫, ০৮:৩৭ পিএম

কুড়িগ্রামে দাম্পত্য দ্বন্দ্বে জাল কাবিননামা, মামলায় ফেঁসেছেন স্বামী

দিনাজপুর টিভি

কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক পারিবারিক দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেনমোহরের অঙ্ক পরিবর্তন করে একাধিক কাবিননামা তৈরি এবং তা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা। দেনমোহর, ভুয়া মামলা ও আসবাবপত্র চুরির অভিযোগে স্ত্রী সুরাইয়া জান্নাত শিল্পীসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী স্বামী মো. আব্দুল হালিম।

পেশায় গার্মেন্টস কর্মী আব্দুল হালিম জানান, ২০০৬ সালের ১২ মার্চ ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী ৮০ হাজার ১০১ টাকা দেনমোহরে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। হালিমের অভিযোগ, সংসার ভালো চললেও পরবর্তীতে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ৩৩ শতক জমি দাবি করে।

এ নিয়ে কলহের জেরে তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে এবং স্বামীর অধিকার থেকেও তাকে বঞ্চিত করে। সংসার টিকিয়ে রাখতে বারবার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি কয়েক দফায় তালাক দেন এবং মীমাংসার মাধ্যমে পুনরায় বিয়ে করেন। সর্বশেষ তিনি ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে স্ত্রীকে রেজিস্ট্রিকৃত তালাক প্রদান করেন।

হালিমের অভিযোগ, এই তালাকের পরও ২০২৩ সালের ৩০ আগস্টের তারিখ দেখিয়ে ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করা হয়। পরে সেই কাবিননামা দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলাও করা হয়। এছাড়া, ২০২৪ সালের ৩ জুন তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী শিল্পীসহ অন্য আসামিরা ট্রাকযোগে প্রায় ৭ লাখ টাকার আসবাবপত্র নিয়ে গেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

প্রথম কাবিননামাটি তৈরি হয়েছিল কুড়িগ্রাম সদরের বেলগাছা ইউনিয়নের কাজী অফিসে। এ বিষয়ে ওই অফিসের কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, তার অফিসে ৮০ হাজার টাকা দেনমোহরেই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল এবং পরে যে ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকার কাবিননামার কথা শোনা গেছে, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

সর্বশেষ কাবিননামাটি নাগেশ্বরীর ভিতরবন্দ ইউনিয়নের কাজীর মাধ্যমে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মামলার নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কাজী অফিস থেকে পাওয়া প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট হালিম ও শিল্পীর মধ্যে কোনো বিয়ে হয়নি এবং নিকাহ রেজিস্ট্রার বইয়ে তাদের নাম পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে প্রতিবেশীরা জানান, হালিমের সংসারে একাধিকবার মীমাংসা হলেও শিল্পীর পক্ষ থেকে বারবার দেনমোহর নিয়ে নতুন ঝামেলা করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শিল্পী বা তার নিকটাত্মীয়রা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে হালিমের দাবি, তাকে নিঃস্ব করার উদ্দেশ্যেই তার স্ত্রী এই জাল কাবিননামা তৈরি করেছেন এবং তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।