রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বীরগঞ্জ ও কাহারোলে ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য র‍্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০১:১০ পিএম

বীরগঞ্জ ও কাহারোলে ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য র‍্যালি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে সংগঠনের স্থানীয় শাখাগুলোর উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 

মেধা সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকেই বীরগঞ্জ ও কাহারোলের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নির্দিষ্ট স্থানে সমবেত হতে থাকেন যা এক পর্যায়ে বিশাল জনস্রোতে রূপ নেয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর বীরগঞ্জ ও কাহারোল আসনের জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব মো. মতিউর রহমান। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সংগঠনের বার্তা পৌঁছে দেয়। র‍্যালি পরবর্তী সমাবেশে জনাব মো. মতিউর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন যে একটি সমৃদ্ধ ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে হলে সৎ এবং দক্ষ নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। 

তিনি তরুণ সমাজকে নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বিগত প্রায় পাঁচ দশক ধরে ছাত্রশিবির দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধার বিকাশ ও নৈতিক চরিত্র গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনেও এই ধারা অব্যাহত রেখে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ছাত্রসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে স্থানীয় ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ সংগঠনের ইতিহাস ঐতিহ্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন যে বর্তমান সময়ে দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৎ ও যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। 

র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারী কর্মীদের হাতে সংগঠনের পতাকার পাশাপাশি জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড শোভা পায়। সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজিত এই র‍্যালিটি স্থানীয় সাধারণ মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হয়। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। 

স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরো কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় রাজনীতিতে সংগঠনের অবস্থান ও সাংগঠনিক শক্তির একটি বড় প্রদর্শনী হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।