শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

দিনাজপুরে মুরগির দামে আগুন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

দিনাজপুরে মুরগির দামে আগুন

ফুলবাড়ীতে মুরগির বাজার

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মুরগির বাজার যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি বা পাকিস্তানি মুরগির দাম কেজিতে এক লাফে প্রায় ১০০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমিষের বাজারে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

শুধু মুরগিই নয়, সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট এবং ডাল ও সবজিসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে। শুক্রবার সকালে সরেজমিনে বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে।

পৌর বাজারের মুরগি পটি ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে যে সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, আজ তা ৩৩০ থেকে ৩৩৫ টাকায় ঠেকেছে। দেশি মুরগির ক্ষেত্রে এই দাম আরও ভয়াবহ। 

আগে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া গেলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। ব্যবসায়ীদের মতে, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং রোগের কারণে খামারে অনেক মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। তবে ব্রয়লার মুরগি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা এবং লেয়ার ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আমিষের বাজারে এই আগুনের আঁচ সরাসরি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের পাতে প্রভাব ফেলছে।অন্যদিকে, বাজারের ভোজ্যতেলের সংকট ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। 

৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল টাকা দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় পরিবেশকরা জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলো তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে নানা শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। তেল নিতে হলে একই কোম্পানির চাল, ডাল বা সুজির মতো অচল পণ্যগুলোও কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই ট্যাগিং বাণিজ্যের কারণে অনেক পরিবেশক ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছেন। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ১ লিটার ও ২ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও ৫ লিটারের সরবরাহ প্রায় বন্ধ। তেলের এই সুযোগে চিনির কেজি ১০৩ থেকে ১৫০ টাকা এবং মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ও সবজি বাজারেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইলিশের সরবরাহ গত বছরের তুলনায় ভালো হওয়ায় দাম কিছুটা কম থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে তা এখনো চড়া। ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৫০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের মাছ ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই ও কাতল মাছ ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও বোয়াল মাছের কেজি ঠেকেছে ১০০০ টাকায়। সবজির বাজারে বেগুনের দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। টমেটো ও পেঁপের দামও সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়েছে। তবে আলুর বাজার ১৮ থেকে ২০ টাকার মধ্যে থাকায় কিছুটা স্বস্তি রয়েছে।

বাজারের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জ্বালানি সংকট ও বিশ্ববাজারের অস্থিরতাকে দায়ী করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান জানিয়েছেন, কেউ যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াতে না পারে সে জন্য নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, শিগগিরই বাজার নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রশাসনের এই তৎপরতায় সাধারণ মানুষ বাজার দর স্থিতিশীল হওয়ার আশা করছেন।