এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১২:০৩ এএম
দিনাজপুরের বিরলে জ্বালানি তেলের সংকটে লিচু বাগানের পরিচর্যা ব্যাহত হওয়ায় অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক বাগান মালিক। তেলের অভাবে সেচ দিতে না পেরে নিজের ব্যবহৃত সেচযন্ত্রটি কাঁধে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হন তিনি। ওই বাগান মালিকের নাম মফিজুর রহমান। তিনি উপজেলার ভাণ্ডারা ইউনিয়নের ভারাডাঙ্গী গ্রামের গিয়াস উদ্দীনের ছেলে।
ভুক্তভোগী বাগান মালিক মফিজুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে প্রথম থেকেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে লিচুর ফলন বেশ কম দেখা যাচ্ছে। এরপর নতুন সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের অভাব। তেলের সংকটে সঠিক সময়ে লিচু গাছ ও ফলের পরিচর্যা করা সম্ভব হচ্ছে না।
তাঁর মতো এলাকার অনেক বাগান মালিকই এখন বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, এই সময়ে লিচুর ফলন ভালো রাখতে সেচযন্ত্রের মাধ্যমে গাছের গোড়ায় পানি দিতে হয় এবং ওষুধ মিশিয়ে ফলে স্প্রে করতে হয়। কিন্তু পেট্রোলের অভাবে মেশিন চালানো যাচ্ছে না।
নিরুপায় হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি, যেন দ্রুত তেলের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যথায় বাগান মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।একই গ্রামের অপর বাগান মালিক সাহাবদ্দিন আহাম্মেদও একই সংকটের কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, পর্যাপ্ত তেলের অভাবে বাগানের যত্ন নিতে না পারায় ফলের গুণমান নষ্ট হওয়ার ভয় কাজ করছে স্থানীয় চাষিদের মধ্যে।
এদিকে ভাণ্ডারা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, রোববার দুপুরের দিকে ইউনিয়ন পরিষদে দুইজন ব্যক্তি তাঁদের মেশিন নিয়ে এসেছিলেন। সেই সময় তিনি পার্শ্ববর্তী বেতুড়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। অনুষ্ঠান থেকে ফিরে এসে তিনি আর ওই বাগান মালিকদের খুঁজে পাননি।
বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার জানিয়েছেন, কৃষকদের সুবিধার্থে সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঞ্জিনচালিত বিভিন্ন গাড়ির মালিক ও কৃষকদের জন্য ফুয়েল কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকৃত বাগান মালিকরা যদি সঠিক নিয়মে আবেদন করেন, তবে অবশ্যই তাঁরা ফুয়েল কার্ড পাবেন। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্ত করে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করবেন। সেই প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করলে চাষিরা সহজেই ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিরল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৫৫৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির লিচুর বাগান রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন