নভেম্বর ১৩, ২০২৫, ১০:৪৮ এএম
চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হতে শুরু করেছে। কৃষকরা এখন তাদের নতুন ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে পেঁয়াজ আমদানির সরকারি আলোচনার খবরে মাথায় হাত পড়েছে পেঁয়াজচাষিদের।
তারা মনে করছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। ঠিক এই সময়ে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হলে তারা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হবেন এবং বিপুল পুঁজি হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়বেন।
জীবননগর উপজেলার কৃষক আসাদ আলীর মতো হাজার হাজার কৃষক এই মুহূর্তে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
তবে বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজিপ্রতি দাম ৩০ টাকা বেড়ে বর্তমানে তা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের আড়ত থেকেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০৩ থেকে ১০৭ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে।
এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পরই বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন হুঁশিয়ারি দেন যে চলতি সপ্তাহের মধ্যে দাম কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না কমলে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ সংক্রান্ত প্রায় দুই হাজার আটশো'র বেশি আবেদন ইতোমধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে জমা পড়েছে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অবশ্য বলছে দেশে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. জামাল উদ্দীন জানান, এখনো কৃষকের হাতে তিন লাখ টন পেঁয়াজ মজুত রয়েছে।
এছাড়া ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ এবং শেষ সপ্তাহে মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টনের বেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তার মতে অসাধু সিন্ডিকেট চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে আমদানির সুযোগ নিতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে দেশের কৃষকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ও কৃষকের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে একই মনোভাব পোষণ করে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইনও এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করেছেন। তিনি মনে করেন প্রতি বছরই এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দেশের বাজার থেকে হাজার কোটি টাকা লুটে নেয়। বাজার থেকে এই সিন্ডিকেট চক্রকে নির্মূল করতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া কিছু ব্যবসায়ী বলছেন যে ভারতে পেঁয়াজের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকায় কম দামে আমদানি করে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে এই পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন