নভেম্বর ২১, ২০২৫, ১০:২৪ এএম
সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তি এনে কমেছে ডিম, মুরগি ও পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে চাল, মাছ এবং গরু-খাশির মাংসের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সব ধরনের সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম ঊর্ধ্বমুখী।কারওয়ান বাজারের আড়তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন,
কিছুদিন বাজারে আগামজাতের সবজি বিক্রি হলেও এখন কৃষকের ক্ষেতের সবজির সরবরাহ কিছুটা কমেছে, যে কারণে দাম বেড়েছে। তবে মুরগি ও ডিমের পাইকারি বাজার নিম্নমুখী থাকায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডজনপ্রতি মুরগির লাল ডিম ১২০ টাকায় এবং সাদা ডিম ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমে মানভেদে ১৫৫ থেকে ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২২০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।গত কয়েক সপ্তাহে সরবরাহ বাড়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম কিছুটা কম থাকলেও গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সবজির দাম ছিল চড়া।
সবজি বিক্রেতা ইব্রাহীম বলেন, সরবরাহ এতটাই কমেছে যে, আড়তেই সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর দামও বেশি। শীতের আগামজাতের সবজি শিম, আলু, লাউ, মুলা, ফুল ও বাঁধাকপির দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে শিমের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ছোট আকারের একটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ৩০ টাকার লাউ গতকাল ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১০০ টাকা, বরবটি ও কাঁকরোলের কেজি ৬০-৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। ঢ্যাঁড়স ও পটলের কেজি ৪০-৫০ টাকা থেকে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পুরোনো আলুর দাম কিছুটা বেড়ে ২৫ টাকা বিক্রি হলেও নতুন আলুর দাম আকাশছোঁয়া; প্রতিকেজি নতুন আলু ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে সবজির বাজার চড়া থাকলেও মাছ-মাংসের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা এবং খাশি ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের বাজারে যে অস্থিরতা ছিল, গতকাল তার উল্টো চিত্র দেখা যায়। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে আরো ৫ থেকে ১০ টাকা কমে মানভেদে ৯৫ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া বলেন, আমদানির খবরে পাইকারি বাজারেই পেঁয়াজের দাম কিছুটা নিম্নমুখী।
আগামী সপ্তাহে নতুন পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম আরো কমতে পারে। বাজারে আগামজাতের পাতাযুক্ত নতুন পেঁয়াজও উঠতে শুরু করেছে, যার প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। টিসিবির গতকালের বাজারদরে দেশি ও আমদানি রসুন, ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে বলে সংস্থাটি দাবি করেছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন