ডিসেম্বর ৫, ২০২৫, ১০:২৩ এএম
সারাদেশের বাজারে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে গেছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে খুচরা বাজারে ভালো মানের পেঁয়াজ এখন ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিকে অস্বীকার করে আমদানির অনুমতি না দেওয়ায় একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন।
তারা মনে করেন, এটি সাময়িক এবং নতুন পেঁয়াজ বাজারে এলে দু-এক দিনের মধ্যেই বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াবাজার, কেরানীগঞ্জের বৌবাজার এবং হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা গেছে।
কয়েকদিন আগেও যে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৯৫ থেকে ১১০ টাকায় পাওয়া যেত, গতকাল তা ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমনকি পাইকারি বাজারেই ভালো মানের পেঁয়াজের পাল্লা (পাঁচ কেজি) এখন ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আবদুল কাদেরের মতে, দুদিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারেই প্রায় ৩০ টাকার মতো বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আড়তে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় দাম আরও বেড়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং চলতি সপ্তাহেই পেঁয়াজের দাম ২০০ টাকায় পৌঁছতে পারে।
আমদানি নিয়ে বিতর্ক:
এদিকে আমদানিকারকরা এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দায়ী করছেন। হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বলেন, কৃষকের স্বার্থের কথা বলে তারা আমদানির অনুমতি দিচ্ছেন না। এটা খুবই দুঃখজনক এবং সিন্ডিকেটচক্রের সঙ্গে তাদের গোপন আঁতাত রয়েছে। তিনি মনে করেন, আমদানির অনুমতি দিলে একদিনের মধ্যে দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকায় নেমে আসবে।
তবে আমদানিকারকদের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. জামাল উদ্দীন বলেন, আমদানির অনুমতি দিতে সরকারকে বাধ্য করতেই সিন্ডিকেটচক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে। তার তথ্যমতে, এখনো মার্কেট প্রসেস এবং কৃষকের হাতে এক লাখ টনেরও বেশি পুরোনো পেঁয়াজ মজুত আছে, অর্থাৎ সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, পেঁয়াজের দাম ১৫০ টাকা অতিক্রম করলে সীমিত আকারে আমদানির সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেওয়া আছে।
অন্যান্য পণ্যের বাজার:
পেঁয়াজের দামের তীব্রতা সত্ত্বেও সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনো সেভাবে কমছে না। এখনো অধিকাংশ সবজির কেজি ৫০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শিম ৬০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ও বেগুনের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কাঁচামরিচের দাম কমে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারকে না জানিয়েই মিল মালিকরা ভোজ্যতেলের দাম লিটারে আট টাকা বাড়িয়েছেন।
মুদি ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন বাবলু বলেন, ছোট দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম ও মুরগির বাজার কিছুটা নিম্নমুখী, ফার্মের প্রতি ডজন ডিম ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির দাম কমে ব্রয়লার ১৫০ থেকে ১৬০ এবং সোনালি জাতের মুরগি ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।c



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন