জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
এবারের ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় মাসব্যাপী ব্যাপক ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মাসব্যাপী চলা এই মেলায় মোট পণ্য বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯৩ কোটি টাকা। শনিবার বিকেলে পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। মেলা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে স্থানীয় বিক্রির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও বিপুল সাড়া মিলেছে।
অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭.৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
আয়োজকরা জানান বহুমুখী পাট পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কসমেটিক্স এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী বিক্রিতে ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া হ্যান্ডলুম, হোম টেক্সটাইল এবং নকশি কাঁথার মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলোও রপ্তানি আদেশ প্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
যেসব দেশ থেকে এবার উল্লেখযোগ্য রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও তুরস্ক। মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল এবং সফল প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি জানানো হয়।এবারের বাণিজ্য মেলায় ভারত, তুরস্ক এবং সিঙ্গাপুরসহ মোট ৬টি দেশের ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি অংশ নিয়েছিল।
স্থানীয় ৩৯৩ কোটি টাকার বিক্রির মধ্যে মেলার ভেতরে থাকা বিভিন্ন রেস্তোঁরার আয়ের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) মনে করছে এবারের মেলা কেবল পণ্য বিক্রির ক্ষেত্র ছিল না বরং এটি বিদেশি ক্রেতাদের সাথে দেশি উদ্যোক্তাদের একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। বিশেষ করে পাট ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতের ছোট উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক মানের অর্ডার পাওয়ায় ভবিষ্যতে দেশের রপ্তানি আয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেলায় যাতায়াতের জন্য বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস এবং ডিজিটাল প্রবেশপত্র ব্যবস্থার কারণে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা বলেন পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যুতে আয়োজিত এই মেলা প্রতি বছরই এর পরিধি ও মান বৃদ্ধি করছে। মেলার সমাপ্তি ঘটলেও প্রাপ্ত রপ্তানি আদেশগুলো আগামী কয়েক মাস ধরে দেশের শিল্প উৎপাদনে বড় ধরনের গতি সঞ্চার করবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন