ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনেই রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ সংকট ও রমজানে বাড়তি চাহিদাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবসায়ীরা সামনে আনলেও রোজার শুরুতেই নিত্যপণ্যের এমন চড়া দামে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, ধানমন্ডি ও রায়েরবাজারসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে খুচরা পর্যায়ে ভালো মানের পেঁয়াজ ৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও মানভেদে অধিকাংশ দোকানেই তা ৭০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে।
অথচ মাত্র কয়েক দিন আগেও এই পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় কেনা সম্ভব ছিল।বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি আড়ত এবং মৌসুমের শেষ সময়কে দায়ী করছেন।
বিক্রেতাদের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে আড়তে পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে এবং রমজান উপলক্ষে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেক ক্রেতার অভিযোগ, রোজা শুরু হওয়ার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট বা কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত সপ্তাহেও যেখানে দুই কেজি পেঁয়াজ একশ টাকার নিচে পাওয়া যেত, সেখানে এখন এক কেজির দামই ৬৫ থেকে ৭০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে রিকশাচালক বা সীমিত আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপণ্যের এই চড়া দাম জীবনযাত্রায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতি বছরই রমজান ঘিরে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করেন। মাঠ পর্যায়ে বাজার তদারকি জোরদার করা না হলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন