বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৫, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ

একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা তাদের গচ্ছিত অর্থ ও মুনাফা ফেরতের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় শাপলা চত্বরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আন্দোলনরত গ্রাহকদের অভিযোগ, ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে তারা তাদের পাওনা টাকা তুলতে পারছেন না। 

দীর্ঘদিন ধরে তারা এই অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের নেওয়া হেয়ার কাট সিদ্ধান্তের কঠোর বিরোধিতা করেন তারা। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের ওপর মাত্র ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যা আমানতকারীরা অন্যায্য ও অমানবিক বলে দাবি করছেন।

বিক্ষোভকারীরা জানান, সঞ্চিত মূলধন ও মুনাফা না পেয়ে সাধারণ গ্রাহকরা বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে না পেরে অনেকে মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি অবিলম্বে তাদের সব দাবি মেনে নেওয়া না হয় এবং ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু না হয়, তবে আগামী ১২ মার্চ আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা ৪ শতাংশ মুনাফার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা আন্দোলনকারীদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা জলকামান ব্যবহার করতে বাধ্য হন। এ সময় মতিঝিল ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আমানতকারীরা জানিয়েছেন, তাদের ন্যায্য পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।