এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি বড় ধাক্কা। ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন দামের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।বিইআরসি’র পক্ষ থেকে দেওয়া এক বার্তায় জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন এই নির্ধারিত দাম আজ রোববার সন্ধ্যা থেকেই সারা দেশে কার্যকর হবে। এর ফলে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ২১২ টাকা বেড়ে গেল।
উল্লেখ্য যে, এর আগে সবশেষ গত ২ এপ্রিল ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এই বিশাল অংকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য রান্নার খরচ মেটানো এখন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতার মধ্যে গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছেন সাধারণ ক্রেতারা।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ডিলার পর্যায় থেকে সরবরাহ সংকট এবং নতুন দামের অজুহাতে অনেক স্থানেই নির্ধারিত ১৯৪০ টাকার চেয়েও বেশি দামে গ্যাস বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিইআরসি অবশ্য জানিয়েছে, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে মাঠপর্যায়ে এই নজরদারি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়ে গেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ক্যাবের (ভোক্তা অধিকার রক্ষা কমিটি) প্রতিনিধিরা বলছেন, এভাবে দফায় দফায় এলপিজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী হচ্ছে। বিশেষ করে যারা পাইপলাইনের গ্যাসের সুবিধা পান না, তাদের পুরো বাজেট এই সিদ্ধান্তের ফলে ওলটপালট হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে দেশীয় বাজারে এই সমন্বয় সাধারণ ভোক্তার ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন