রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, শেয়ারবাজারে অস্থিরতা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১১:০৯ এএম

বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, শেয়ারবাজারে অস্থিরতা

অস্থির বিশ্ব তেলের বাজার

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেনি, বরং অস্থিরতা আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ঘোষণার পরও অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় তেলের বাজার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরণের দরপতন দেখা গেছে। 

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনভর অস্থিরতার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছোঁয়ার উপক্রম হয়েছে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সাথে আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। 

তবে একই সাথে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ আগের মতোই বলবৎ থাকবে। এই দ্বিমুখী বার্তার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৮.৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

দিনের শুরুতে দাম কিছুটা কম থাকলেও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে শেষ পর্যন্ত তা ঊর্ধ্বমুখী হয়।তেলের বাজারের এই প্রভাব সরাসরি পড়েছে মার্কিন শেয়ারবাজারে। মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান তিনটি সূচকই নিম্নমুখী ছিল। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক প্রায় ২৯৩ পয়েন্ট কমে গেছে। প্রযুক্তি খাতের প্রধান সূচক নাসডাক কম্পোজিটও একই হারে দর হারিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ বহাল থাকার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়ে বড় ধরণের সংশয় তৈরি হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত একটি স্থায়ী চুক্তি না হচ্ছে এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা না হচ্ছে, ততক্ষণ তেলের দাম ও শেয়ারবাজারে এই অস্থিরতা বজায় থাকবে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার রেশ এবং অন্যদিকে ভবিষ্যৎ সংঘাতের সম্ভাবনা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতি এক ধরণের অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে তার নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বজুড়ে পরিবহন ও শিল্প খাতে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।