রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৬, ২০২৬, ১১:০১ এএম

উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে তেল খালাসের প্রস্তুতি

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পুনরায় উৎপাদনে ফিরছে। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে অয়েল ট্যাংকার ‘এমটি নিনেমিয়া’ আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া বহির্নোঙরে পৌঁছেছে।

বন্দর সূত্র জানায়, জাহাজটি নোঙর করার পরপরই লাইটারিংয়ের মাধ্যমে তেল খালাস কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কাঁচামাল সংকটের কারণে গত ১২ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল প্ল্যান্টে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। 

তেলের এই নতুন চালানটি রিফাইনারির ট্যাংকে পৌঁছানোর পর আগামী ৭ বা ৮ মে থেকে প্ল্যান্টটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।হরমুজ প্রণালিতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে ক্রুড অয়েলের আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়। 

১৮ ফেব্রুয়ারির পর গত প্রায় আড়াই মাস দেশে অপরিশোধিত তেলের কোনো চালান আসেনি। এর আগে ১ লাখ টন ক্রুড বোঝাই করার পর সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামের একটি ট্যাংকার আটকা পড়েছিল। পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে ইয়ানবু বন্দর থেকে এই চালানটি পাঠানো হয়।বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, এমটি নিনেমিয়া আজ বেলা ১১টার দিকে বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা। 

তিনি আরও জানান, আগামী ২০-২১ মে আরও ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি ফসিল’ নামের আরেকটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। এছাড়া মে মাসের শেষ দিকে বা জুনের শুরুতে সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ টন তেল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ খান জানান, বর্তমানে কাঁচামাল সংকটে প্রতিষ্ঠানের চারটি ইউনিটের মধ্যে তিনটিই বন্ধ রয়েছে। ক্রুড অয়েল প্ল্যান্টে পৌঁছালে দ্রুততম সময়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু করা হবে।

উল্লেখ্য, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। এখান থেকে প্রতিদিন ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি ও উপজাত উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ শতাংশ। এই রিফাইনারিটি দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ জোগান দিয়ে থাকে।