বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুদ্ধবিরতির আভাসে বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৪, ২০২৬, ০২:২২ পিএম

যুদ্ধবিরতির আভাসে বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আভাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা কিছুটা থিতু হওয়ায় হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হওয়ার আশা জেগেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে।বিশ্ববাজারে আজ তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ৯৬ দশমিক ৯২ ডলারে নেমে এসেছে। একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কমে ৯৫ দশমিক ২৪ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে। 

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে দাম বাড়ার যে প্রবণতা ছিল, তা এখন কিছুটা ধীর হয়েছে।তবে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে এখনো উদ্বেগ রয়ে গেছে।গত বুধবার ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস—উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় দুই শতাংশ বেড়েছিল। 

কুয়েতে ইরানের হামলা ও হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সামরিক অভিযানের খবরের জেরে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। গতকাল রাতে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ঘোষণা দিলে বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই আছে।

মার্কিন জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৯ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে আমেরিকার অপরিশোধিত তেলের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। আগের সপ্তাহে মজুত ছিল ৮০ লাখ ব্যারেল, যা বিশ্লেষকদের ধারণার দ্বিগুণেরও বেশি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সতর্ক করেছে যে, এভাবে মজুত কমতে থাকলে গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে তেলের জোগান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে।

ডাচ বহুজাতিক ব্যাংক আইএনজি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ দ্রুত শুরু হলেও বাজার স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগবে। বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে তেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘাটতি থাকলে দাম আবারও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স