সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে সরকার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১১, ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে সরকার

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিশাল ও মেগা বাজেট ঘাটতি সফলভাবে মেটাতে দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত থেকে সর্বমোট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নতুন ঋণ নেওয়ার বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বিদায়ী চলতি অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এবার এই বিশেষ খাতে সরকারের ঋণ গ্রহণের নির্ভরতা প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে আনা হয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঋণ পরিকল্পনার কথা জানান।বাজেট বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন যে আগামী এক বছরের জন্য মোট সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।বিশাল অংকের এই ঘাটতি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমপরিমাণ। 

অর্থমন্ত্রী জানান যে এই বিশাল ঘাটতি অর্থায়নে দেশীয় অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক—উভয় নির্ভরযোগ্য উৎস থেকেই সুনির্দিষ্ট অনুপাত অনুযায়ী ঋণ নেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা বা বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সরাসরি সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও সিংহভাগ আর্থিক জোগান আসবে মূলত দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে।

আগামী অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। বেসরকারি খাতে যেন ঋণ প্রবাহ সচল থাকে এবং তারল্য সংকট তৈরি না হয়, সে জন্যই মূলত সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নিজের ধার নেওয়ার পরিমাণ কিছুটা সংকুচিত করেছে। তবে অভ্যন্তরীণ উৎসের বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা জাতীয় সঞ্চয়পত্র এবং অন্যান্য ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে অর্থ বিভাগ।