জুন ১৫, ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আরও দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। গ্রাহকদের নগদ টাকা উত্তোলনের প্রবল চাপ সামাল দিতে ব্যাংকটিকে প্রাথমিকভাবে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ধার দেওয়া হয়েছে। সোমবার ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র থেকে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি তারল্য সংকট কাটাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে মোট ১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তার আবেদন করেছিল।গত ১ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত মাত্র নয় দিনে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার আমানত তুলে নিয়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। ব্যাংকটির নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, কেবল প্রথম এক সপ্তাহেই আমানত কমেছে চার হাজার ২০৪ কোটি টাকা।
পরবর্তী দুই দিনে আরও প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর ফলে ব্যাংকটির বেশ কয়েকটি শাখা এবং এটিএম বুথে চরম নগদ অর্থের সংকট তৈরি হয়।পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। সেখানে ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
পরে রাতেই ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ৪৫ এবং ৪৭(৩) ধারার ক্ষমতাবলে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়। চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করে বোর্ডের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে।
ব্যাংক, আমানতকারী এবং সার্বিক জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে গত শুক্রবার ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে পরবর্তীতে আরও নগদ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন