সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ব্যাংকঋণ আদায়ে খেলাপি গ্রাহকদের বড় ছাড় দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২৯, ২০২৬, ১০:৩১ পিএম

ব্যাংকঋণ আদায়ে খেলাপি গ্রাহকদের বড় ছাড় দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেশের ব্যাংক খাতে ক্রমাগত বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে এবং ঋণ আদায়ের গতি বাড়াতে বড় ছাড় ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে খেলাপি গ্রাহকেরা এককালীন সব টাকা পরিশোধের শর্তে বিশেষ এক্সিট বা ব্যাংক থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুবিধা পাবেন। সোমবার দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি জরুরি সার্কুলার পাঠিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আর্থিক খাতের এই নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা।

এই বিশেষ নীতিমালার সুবিধা ও নির্দেশনা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরোপুরি কার্যকর থাকবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। 

এ অবস্থায় যেসকল ঋণগ্রহীতা বিভিন্ন বাস্তব কারণে আর্থিক সংকটে পড়লেও ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা রাখেন এবং ঋণ পরিশোধের আন্তরিকতা রয়েছে, তাঁদের এই এককালীন বিশেষ এক্সিট সুবিধা দেওয়া হবে। এর ফলে ঋণগ্রহীতাদের সব ধরনের আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফের পথও অনেক সহজ করা হয়েছে। আগে সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল ব্যয় বা কস্ট অব ফান্ড আদায় নিশ্চিত করার যে আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল, নতুন নীতিমালায় তা শিথিল করা হয়েছে।

পাশাপাশি রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর আয় খাত বিকলন করে সুদ মওকুফ না করার যে কঠোর শর্ত ছিল, সেটিও এবার সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের জন্য শিথিল থাকবে। সার্কুলারের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণ এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আসবে। তবে এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে এবং পুরো বিষয়টি নির্ধারিত হবে ব্যাংকার ও গ্রাহকের পারস্পরিক সুসম্পর্কের ভিত্তিতে। এছাড়াও মন্দ বা ক্ষতিজনক মানের যেসকল ঋণ গত ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও এই বিশেষ এক্সিট সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

নতুন নিয়মে বিশেষ এক্সিট দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রামীণ কৃষি খাতের স্বল্পমেয়াদী কৃষি ঋণ এবং সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও স্মল ঋণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকগুলোর দীর্ঘদিনের অনাদায়ী বা আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণ যেমন কমবে, ঠিক তেমনি বাজারে নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে অর্থনীতিবিদরা আশা প্রকাশ করছেন।