বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
ডিজিটাল লেনদেন বিপ্লব

বাংলা কিউআর লেনদেন ৯০ দিনে পাঁচ গুণ: বাংলাদেশ ব্যাংক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১২:১১ পিএম

বাংলা কিউআর লেনদেন ৯০ দিনে পাঁচ গুণ: বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশে সর্বজনীন বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত গতিতে বাড়ছে। মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে এই পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একই সময়ে মোট লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে তিন গুণ। এই বাস্তবতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের খরচ কমানো, তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর নিশ্চিত করা এবং সাধারণ গ্রাহকদের জন্য অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে একগুচ্ছ নতুন নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে সরকারি মুখপাত্রসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাশলেস অর্থনীতি বিনির্মাণে বাংলা কিউআর শক্ত ভিত তৈরি করেছে। মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, গত জুন মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে এক লাখ লেনদেন সম্পন্ন হতো, যার দৈনিক আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ কোটি টাকা। বর্তমানে দৈনিক গড় লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখে পৌঁছেছে এবং প্রতিদিন মোট লেনদেনের আর্থিক অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকায়। বর্তমানে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহকেরা নিজেদের মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে কেনাকাটার বিল পরিশোধের সুবিধা পাচ্ছেন। উল্লেখ্য, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা গতিশীল করতে এবং আলাদা আলাদা কিউআর কোডের জটিলতা নিরসনে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে সর্বজনীন বাংলা কিউআর চালুর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে ১ অক্টোবর থেকে বেশ কিছু নতুন নির্দেশনা কার্যকর হতে যাচ্ছে। বাংলা কিউআরভিত্তিক কেনাকাটাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে মার্চেন্টদের ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ জমা হওয়ার বিধান চালু করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি অ্যাকোয়ারার প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত সর্বনিম্ন এক শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কার্ড বা সেবা প্রদানকারী ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ ফি বা আইআরএফ নির্ধারণ করা হয়েছে শূন্য। এর সরাসরি প্রভাবে ব্যবসায়ীদের লেনদেন খরচ ব্যাপকভাবে কমে যাবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের বিনা খরচে অথবা অত্যন্ত কম খরচে সেবা দিতে পারবে। এছাড়া মার্চেন্ট পয়েন্টে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে উৎসাহিত করতে অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নভেম্বরের শুরু থেকে ব্যক্তি পর্যায়ের সরাসরি অর্থ স্থানান্তর সুবিধা উন্মুক্ত হচ্ছে। বাংলা কিউআর প্রযুক্তির সামগ্রিক পরিধি বাড়াতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থাৎ পিটুপি লেনদেন ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে। এই ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক সরাসরি অন্য গ্রাহকের ব্যক্তিগত কিউআর কোড স্ক্যান করে অথবা অ্যাপের ভেতরে কিউআর কোডের সংরক্ষিত ছবি আপলোড করে যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের হিসাবে তাৎক্ষণিক অর্থ পাঠাতে পারবেন। পাশাপাশি লেনদেনের সময় কোনো কারণে প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে দ্রুততম সময়ে গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। লেনদেন নিয়ে সৃষ্ট যেকোনো অভিযোগ ও বিরোধ দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি বিশদ নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলা কিউআর সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ বা জটিলতা দেখা দিলে গ্রাহকদের সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হেল্পলাইন ১৬২৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।