জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্য কোনো নির্বাচন আয়োজন না করার বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর থেকেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)। নির্ধারিত ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়ে আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর আল্টিমেটাম দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
গতকাল সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর আজ ভোরে এই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে যে, জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো স্থানীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক নির্বাচন করা যাবে না। এই খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। রাতভর ভিসি ভবন, গোলচত্বর ও শাকসু নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে সাধারণ শিক্ষার্থী, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।
আন্দোলন চলাকালে বিজয় ২৪ হলের ভিপি প্রার্থী হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারান। তাকে দ্রুত মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শাকসু নির্বাচন কমিশনাররা ব্যর্থ হলে উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম ঘটনাস্থলে আসেন। পরে প্রশাসনিক ভবনে ভোর পর্যন্ত চলা বৈঠকে তিনি জানান, উপাচার্য ঢাকায় আছেন এবং তিনি প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে আপিল করবেন।তবে শিক্ষার্থীরা উপউপাচার্যের আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে স্পষ্ট ঘোষণা চান।
তারা দাবি করেন, আজ দুপুর ২টার পর উপাচার্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন এবং বিকেল ৫টার মধ্যে শাকসু নির্বাচনের বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ জানাবেন।
উপাচার্য আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত থাকবেন।
এরপর তিনি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে শাকসু নির্বাচনের বিশেষ অনুমতির বিষয়ে আলোচনা করবেন।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ৫টার মধ্যে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
ক্যাম্পাসে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সব পক্ষের নজর এখন বিকেল ৫টার দিকে—শাকসু নির্বাচনের ভাগ্য কোন দিকে গড়ায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন