রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজকর্ম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন মেহেরচণ্ডী এলাকার একটি আবাসিক বাসা থেকে জুবাইদা ইসলাম ইতি নামের ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত অবস্থায় তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।মৃত ইতির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার বাবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজে (আইবিএস) পিয়ন হিসেবে কর্মরত। 

ইতি তার মায়ের সঙ্গে মেহেরচণ্ডী এলাকার ওই বাসায় বসবাস করতেন। রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস জানান, সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল, তবে তার আগেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ইতির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ আমরা এখনও জানি না। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক অবসাদ বা ব্যক্তিগত কোনো বিষণ্ণতা থেকে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন।” বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সহপাঠীদের মতে, ইতি শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং তার এমন আচরণে সবাই স্তম্ভিত।