মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কিউএস বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে দেশসেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১৯, ২০২৬, ১১:৩০ এএম

কিউএস বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে দেশসেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের কিউএস বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো দেশসেরা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২৭: টপ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটিস’ শীর্ষ তালিকায় এই গৌরবময় অর্জন ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রথম সারির সেরা ৬০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও নিজেদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান অটুট রেখেছে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ।

প্রকাশিত এই আন্তর্জাতিক তালিকায় এবার বিশ্বজুড়ে সর্বমোট এক হাজার ৫০৪টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছিল।বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মোট ৯টি পৃথক সূচকের ভিত্তিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ স্কোর নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সব সূচকের প্রাপ্ত নম্বরের গড় স্কোর অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ বছর সামগ্রিকভাবে ২৮ দশমিক ৩ স্কোর অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণায় দীর্ঘদিনের অনন্য অবদানের প্রতিফলন হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক সুনাম সূচকের স্কোরও দাঁড়িয়েছে ঠিক ২৮ দশমিক ৩। বিশেষ করে কর্মসংস্থান ফলাফল সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়টি উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে যেখানে তাদের অর্জিত স্কোর সর্বোচ্চ ৯৫।

এই সূচকের বড় স্কোরের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে প্রতিষ্ঠানটির varsity বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী স্নাতকরা বর্তমান কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য। পাশাপাশি নিয়োগদাতাদের দৃষ্টিতে সুনাম সূচকে ৫০ দশমিক ৮ স্কোর অর্জন করায় শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও দক্ষতার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবে তাদের গবেষণা নেটওয়ার্ক সূচকে স্কোর দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ১। এছাড়া টেকসই উন্নয়ন সূচকে ৬০ দশমিক বা ৬ স্কোর পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশগত ও সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি বিশ্বমঞ্চে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

তবে বৈশ্বিক এই সূচকের কিছু ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উন্নতির বড় সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। যেমন সাইটেশনস পার ফ্যাকাল্টি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত উভয় ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয়টির অর্জিত স্কোর মাত্র ৮। তাছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত সূচকে ২ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত সূচকে ১ দশমিক ৪ স্কোর আসায় আন্তর্জাতিকীকরণের ক্ষেত্রে আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে যেতে হলে গবেষণা প্রকাশনা বৃদ্ধি ও বৈদেশিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।