সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
গুণী শিক্ষকদের পেশাগত সামাজিক মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে এ বছর থেকে জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের সম্মাননা ১২ জন থেকে বাড়িয়ে ১০০ জনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে এই সম্মাননা কেবল ১২ জন শিক্ষকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে দেশে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত মোট ১০০ জন কৃতি শিক্ষককে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বীকৃতির আওতায় আনা হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উদযাপনে গঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের কার্যকরভাবে উৎসাহিত করবে। তিনি জানান, আগামী ৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব শিক্ষক দিবস প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করা হবে। সেই অনুষ্ঠানে মনোনীত ১০০ জন গুণী শিক্ষকের হাতে সরাসরি এই বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হবে।
উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষকরা কেবল শিক্ষার্থীদের পাঠদানই করান না, বরং নতুন প্রজন্মের মননে সততা, দেশপ্রেম, নিজস্ব মেধা ও মানবিক মূল্যবোধের বীজ বপন করে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি বিনির্মাণে আজীবন আত্মনিয়োগ করেন। শিক্ষকদের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও নিরলস শ্রমের ওপর নির্ভর করেই প্রধানমন্ত্রী মেধাভিত্তিক আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপরেখা বাস্তবায়ন করছেন। তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা ও শিক্ষানীতির মূল দর্শন হলো শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত গবেষণামুখী ও বাস্তবসম্মত একটি শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা। নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈচিত্র্য তুলে ধরে মুখপাত্র উল্লেখ করেন, এই সম্মাননার তালিকায় কেবল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই নন, মাধ্যমিক পর্যায়ের সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা—এই তিন ধারার শিক্ষকরাও সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
এর পাশাপাশি সাধারণ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র যেমন চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিটি শাখা থেকেই যোগ্য গুণী শিক্ষকদের বাছাই করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এটি মূলত দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সরকারপ্রধানের দূরদর্শী চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ। কারণ যারা আগামীর বাংলাদেশের কাণ্ডারি হবে, সেই শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার মূল রূপকার হলেন শিক্ষকমণ্ডলী। সেই গুণী কারিগরদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং সমাজে তাদের সম্মান সুপ্রতিষ্ঠিত করতেই জাতীয় এই সম্মাননার পরিধি ব্যাপক করা হয়েছে। আগামী দিনেও দেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখা শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন ও জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়াতে সরকারের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
উক্ত পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন