সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের সুরক্ষায় একটি মেগা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সভায় বাংলাদেশে যক্ষ্মা, এইচআইভি বা এইডস এবং ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ ও সফলভাবে মোকাবিলায় সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদারকরণের লক্ষ্যে চার হাজার ৩৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের একটি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ফেনীর মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর নিষ্কাশন ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে পৃথক প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের অংশ হিসেবে ফেনীর সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণে ২১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
পার্বত্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগ অবকাঠামো সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে এই বৈঠকে। দেশের তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুই হাজার ৯১০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের তৃতীয় সংশোধনীতে প্রস্তাবিত ৮৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ এবং শক্তিশালীকরণের জন্য চার হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সুবিশাল সড়ক প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সুবিধা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যের বিদ্যমান আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করছে বর্তমান সরকার। প্রতিমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে তিনটি পার্বত্য জেলার দুর্গম পাহাড়ী জনপদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে, যার ফলে ওই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে লাঘব হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন