রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগপত্র চেয়ে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম

প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগপত্র চেয়ে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও অদ্যাবধি নিয়োগপত্র না পাওয়া চাকরিপ্রার্থীরা রাজধানীর শাহবাগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। রোববার সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সমবেত হন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রার্থীরা। পরবর্তীতে বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শাহবাগ থানার সামনের সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেন তারা।

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর্মস্থলে যোগদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এই আন্দোলনের সূত্রপাত। গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের অনুকূলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। তবে প্রক্রিয়াটি শুরু হলেও সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থী কোনো অজানা কারণে নিয়োগপত্র হাতে পাননি। এর ফলে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ এই প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র হতাশা, চরম উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক প্ল্যাটফর্মের তথ্যমতে, উত্তীর্ণ ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর পুলিশ যাচাই প্রক্রিয়ায় সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় দেড় সহস্রাধিক প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। একই দাবি সামনে এনেছে কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি মঞ্চ। সংগঠনটি জানিয়েছে, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও পুলিশ প্রতিবেদনে জটিলতার অজুহাতে প্রায় দেড় হাজার প্রার্থীর নিয়োগ স্থগিত রাখা অন্যায্য। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া প্রার্থীদের তালিকা থেকে বাদ পড়ার পেছনের সুস্পষ্ট কারণ জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে বঞ্চিতদের দ্রুত নিয়োগপত্র নিশ্চিত করাসহ মোট পাঁচ দফা দাবিতে গত শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে প্ল্যাটফর্মটি।

চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল বিগত জানুয়ারি মাসে। গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ব্যতিরেকে দেশের ৬১টি জেলায় একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্য থেকে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। 

পরবর্তীতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়, যাতে মেধার ভিত্তিতে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশের আওতায় আনা হয় এবং জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশিত হয়। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের দীর্ঘ সময় পর নিয়োগপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত এলে নির্বাচিত প্রার্থীরা স্বস্তির আশা করেছিলেন, কিন্তু বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর নিয়োগপত্র হঠাৎ আটকে যাওয়ায় এই সংকট রাজপথের অবস্থানে রূপ নিয়েছে।