রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

র‍্যাগিংয়ের ভিডিও করায় রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২০, ২০২৬, ১১:৩০ এএম

র‍্যাগিংয়ের ভিডিও করায় রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করার অপরাধে শিক্ষক ও প্রক্টরের সামনেই কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের রবীন্দ্র ভবনের সামনে মার্কেটিং বিভাগের একদল শিক্ষার্থী এই মারধর শুরু করে। অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্বয়ং প্রক্টর এবং বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এই হামলা চলে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনেই পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে যে মার্কেটিং বিভাগের কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থীকে রবীন্দ্র ভবনের পাশের সাইকেল গ্যারেজে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে র‍্যাগ দিচ্ছিল সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। এই খবর পেয়ে সহকারী প্রক্টর এবং কয়েকজন কর্মরত সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হন। ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় সিনিয়র শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং ভিডিওটি মুছে ফেলার জন্য অনবরত চাপ দিতে থাকে। 

এতে রাজি না হওয়ায় সাংবাদিকদের দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও নানা হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক সালমান সাব্বির এবং বিতর্ক সম্পাদক ইমরান লস্কর উপস্থিত হলেও তাদের ওপরও চড়াও হয় অভিযুক্তরা।পরবর্তীতে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এবং মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক বোরাক আলী। 

প্রক্টর অফিসে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে সবাই যখন রওনা হচ্ছিলেন তখনই হঠাৎ এক সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয়ে পেটে লাথি ও মুখে থাপ্পড় মারে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা। এরপর মার্কেটিং বিভাগের একদল শিক্ষার্থী একজোট হয়ে সাংবাদিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি ও লাথি মারতে থাকে। পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানোর কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে যাওয়া ছাত্রদের দুই নেতাও গুরুতর লাঞ্ছিত হলে প্রক্টর নিজের গাড়িতে করে তাদের উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিশ্চিত করেছেন যে তাঁর সামনেই এই জঘন্যতম অন্যায় করা হয়েছে এবং সেখানে র‍্যাগিংয়ের সব লক্ষণ উপস্থিত ছিল। সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক জহুরুল ইসলামও এই ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভঙ্গ করার শামিল বলে উল্লেখ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও মার্কেটিং বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন যে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।