সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রাবিতে পোষ্য কোটা নিয়ে তুলকালাম, উপ-উপাচার্যের সঙ্গে হাতাহাতি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫, ০৮:০১ পিএম

রাবিতে পোষ্য কোটা নিয়ে তুলকালাম, উপ-উপাচার্যের সঙ্গে হাতাহাতি

ছবি - সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কোটা বাতিলের দাবিতে আমরণ অনশনে থাকা তিনজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছেন। এছাড়া, উপ-উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। এই কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হয়নি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মাঈন উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠুভাবে প্রশাসন চালাতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আলটিমেটামের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকালে শহীদ জোহা চত্বরে আশাদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন শুরু করেন। তার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অন্য শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। দুপুরের পর তিনজন অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপ-উপাচার্য ড. মাঈন উদ্দিন প্রশাসন ভবন থেকে বের হওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা তার গাড়ি আটকে দেন।

একপর্যায়ে তিনি হেঁটে বাসভবনে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা গেটে তালা দেয়। এ সময় উপ-উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রক্টরের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের হাতাহাতি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্যকে একটি ভবনের কক্ষে অবরুদ্ধ করে বাইরে আন্দোলন করতে থাকে।

এদিকে, হাতাহাতির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে তার হাতের ঘড়ি ও পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা ছিনতাই হয়েছে। তিনি এই ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আন্দোলন করবে করুক, কিন্তু ছিনতাই কেন হবে?” অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন যে শিক্ষকরাই তাদের ওপর আক্রমণ করেছেন এবং গায়ে হাত তুলেছেন।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য শর্তসাপেক্ষে ভর্তি পরীক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যার প্রতিবাদে শিবির, ছাত্রদল ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করেছিল।