ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ০৭:৫৬ পিএম
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অনেক জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকারা স্থায়ী বা সাময়িক সময়ের জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। কেউ কেউ সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন, আবার কেউ দেশে এসে সীমিত পরিসরে কাজ করে পুনরায় চলে যাচ্ছেন।
শিল্পীদের এই দেশ ছাড়ার প্রবণতা নিয়ে মুখ খুললেন চলচ্চিত্রশিল্পী সমিতির সভাপতি ও জনপ্রিয় খল-অভিনেতা মিশা সওদাগর। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দেশের স্থানীয় চলচ্চিত্র শিল্পে কাজের সংকটই মূলত তারকাদের বিদেশ যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলার সময় এই অভিনেতা বলেন, কাজ না থাকলে শিল্পীদের কী করার আছে? একসময় আমাদের দিনে চার-পাঁচটা সিনেমার কাজ থাকত।
সকাল সাতটা থেকে রাত দুটো পর্যন্ত টানা শুটিং চলতো। কিন্তু এখন সেই এফডিসি কার্যত প্রায় বন্ধ। যে শিল্পীরা দেশ ছেড়েছেন, তাদের কি কারও মন চাইছিল? তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, অমিত হাসান, মৌসুমী, ইমন, আলেকজান্ডার বো-সহ অনেকেই চলে গেছেন। মাহিয়া মাহিও এখন যুক্তরাষ্ট্রে। মিশা সওদাগরের মতে, কাজের পরিবেশ থাকলে এবং নিয়মিত আয়ের সুযোগ থাকলে তারা কেউই দেশ ছেড়ে যেতেন না।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন এই অভিনেতা। তিনি জানান, তার পরিবার স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে এবং তিনিও বছরের একটি বড় সময় সেখানেই কাটান। শিল্পীদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার চাপ নিয়ে মিশা সওদাগর ব্যাখ্যা করেন, শিল্পীদের কাজ থাকুক বা না থাকুক, অনেক কিছু মেইনটেইন করতে হয়। চেহারা, পোশাক, গাড়ি, মোবাইল, ঘরের পরিবেশ—সবকিছুতেই সমাজে একটি মান ধরে রাখতে হয়। তিনি বলেন, আমরা কাজ করি পরিবারের জন্য এবং বেঁচে থাকার তাগিদে।
কিন্তু কাজই যদি না থাকে, আয় যদি বন্ধ হয়ে যায়, তখন একজন শিল্পী কী করবেন! বিদেশে গেলে অন্তত স্থায়ীভাবে কাজ পাওয়া যায় এবং পরিবার নিয়ে টিকে থাকা যায়। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়ছেন। এটা তাদের দোষ নয়, বরং পরিস্থিতির চাপ বলে তিনি মনে করেন। মিশা সওদাগরের বিশ্বাস, স্থানীয় চলচ্চিত্র শিল্পে যদি কাজের পরিমাণ বাড়ানো যায়, তবে তারকারা আবার স্বচ্ছন্দ্যে দেশে ফিরে আসবেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন