রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

পিঁপড়ার রহস্যময় ভাষা ও অবিশ্বাস্য বুদ্ধিমত্তা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৩১, ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

পিঁপড়ার রহস্যময় ভাষা ও অবিশ্বাস্য বুদ্ধিমত্তা

পিঁপড়ার বিস্ময়কর জগত

প্রকৃতির এক ক্ষুদ্র অথচ বিস্ময়কর সৃষ্টি হলো পিঁপড়া। আমরা খালি চোখে তাদের অতি সাধারণ মনে করলেও বিজ্ঞানীদের মতে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য তারা অত্যন্ত উন্নত ও বিশেষ এক ভাষা ব্যবহার করে। এই ক্ষুদ্র প্রাণীরা মূলত রাসায়নিক কোডের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে। পবিত্র কোরআনেও হাজার বছর আগে পিঁপড়ার এই বুদ্ধিমত্তা ও ভাষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

সুরা নামালে বর্ণিত হজরত সোলায়মান (আ.)-এর যুগের একদল পিঁপড়ার ঘটনা থেকে জানা যায় যে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সতীর্থদের সতর্ক করার এক অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। ওই ঘটনায় একটি পিঁপড়ার সতর্কবার্তার কথা শুনে হযরত সোলায়মান (আ.) মুচকি হেসেছিলেন এবং আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করেছিলেন।

আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতিটি প্রজাতির প্রাণীর যেমন নিজস্ব ঘ্রাণ থাকে ঠিক তেমনি একই প্রজাতির প্রতিটি প্রাণীরও আলাদা আলাদা ঘ্রাণ থাকে। এই ঘ্রাণই তাদের বংশ ও পরিবারের পরিচয় বহন করে। 

পিঁপড়াদের ক্ষেত্রে এই ঘ্রাণ বা বিশেষ এক গোপন রাসায়নিক ভাষাকে বিজ্ঞানীরা ‍‍`ফেরোমন‍‍` বলে অভিহিত করেন। এটি মূলত পিঁপড়ার মলদ্বারের কাছে থাকা একটি বিশেষ গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হয়। এই ফেরোমন ব্যবহারের মাধ্যমেই তারা বন্ধু ও শত্রুকে অতি সহজে শনাক্ত করতে পারে। কোনো কর্মী পিঁপড়া যদি খাবারের সন্ধান পায় তবে সে ওই নির্দিষ্ট জায়গাটি ফেরোমন নিঃসরণ করে চিহ্নিত করে রাখে যাতে তার সহকর্মীরা দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারে। ফিরে আসার সময়ও তারা একই কৌশলে পথ চিহ্নিত করে রাখে যা তাদের পথ হারাতে বাধা দেয়।

সোলায়মান (আ.)-এর বিশাল সেনাবাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করতে পারা এবং নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে গর্তে ঢুকে পড়ার যে আহ্বান কোরআনের বর্ণনায় পাওয়া যায় তা প্রমাণ করে যে পিঁপড়ার চিন্তা করার ক্ষমতা ও উন্নত বিবেক রয়েছে। বুদ্ধিমত্তা না থাকলে বিশাল এক বাহিনীর গন্তব্য এবং তাদের অজান্তে পিষে ফেলার আশঙ্কা টের পাওয়া সম্ভব ছিল না। আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণও এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে। জীববিজ্ঞানীদের মতে পিঁপড়ার মস্তিষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের মতোই দুটি প্রধান লোব এবং উন্নত স্নায়ুকেন্দ্র নিয়ে গঠিত। এদের শরীরে থাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল কোষগুলো বাইরের যেকোনো ক্ষুদ্র স্পন্দন বা বিপদের পূর্বাভাস সহজেই ধরতে পারে।

পিঁপড়াদের এই জীবন প্রণালী ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বর্তমান সময়ের নতুন সব গবেষণা বিজ্ঞানীদেরও অবাক করে দিচ্ছে। পিঁপড়ারা কেবল পরিশ্রমীই নয় বরং তারা যে এক সুশৃঙ্খল ও বুদ্ধিমান সমাজ ব্যবস্থার অংশ সেটি তাদের এই রাসায়নিক ভাষা ও মস্তিষ্কের গঠন থেকেই অনুমিত হয়। তাদের ক্ষুদ্র শরীরে থাকা মস্তিষ্কের জটিল গঠন প্রমাণ করে যে সৃষ্টির প্রতিটি কারুকাজই অত্যন্ত নিপুণ। ক্ষুদ্র এই প্রাণের ভেতরের এমন বিস্ময়কর ব্যবস্থাপনা প্রকৃতি ও বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল গবেষণার ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের মস্তিষ্কের মতো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোষে তথ্য বিশ্লেষণের এই ক্ষমতা পিঁপড়াকে প্রাণিজগতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।