রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

থাইরয়েড রোগীরাও পেটের চর্বি কমাবেন যেসব সহজ উপায়ে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১১, ২০২৫, ০১:১১ পিএম

থাইরয়েড রোগীরাও পেটের চর্বি কমাবেন যেসব সহজ উপায়ে

থাইরয়েড সমস্যা বহু মানুষের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জে পরিণত করে। থাইরয়েডের কারণে বিপাকক্রিয়ার ধীরগতি এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা শরীরকে সহজে পেটের চারপাশে চর্বি জমানোর দিকে নিয়ে যায়। এর ফলে কেবল স্বাস্থ্য সমস্যাই নয়, ব্যক্তির আত্মবিশ্বাসও কমে যেতে পারে।

যদিও থাইরয়েড রোগীদের জন্য কঠোর ব্যায়াম সবসময় সম্ভব নয়, তবুও সঠিক খাদ্যাভ্যাস, হালকা দৈনন্দিন কার্যকলাপ এবং নিয়মিত জীবনধারা মেনে চললে পেটের চর্বি ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব।

ছোট ছোট পরিবর্তন একত্র করে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যে বড় পরিবর্তন আনা যায়।আজ আমরা সহজ ও কার্যকর কিছু টিপস জানবো, যা থাইরয়েড থাকলেও পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করবে।

এগুলো দৈনন্দিন জীবনের সাথে সহজেই মানিয়ে নেওয়া যায়: প্রোটিন বেশি খান: প্রোটিন হজম হতে দীর্ঘ সময় নেয়, ফলে এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, অতিরিক্ত খাওয়া কমায় এবং ধীর হয়ে যাওয়া বিপাককে শক্তিশালী করে। প্রতিদিনের খাবারে ডিম, মাছ, মুরগি, ছোলা বা মটরশুঁটি এবং কম চর্বিযুক্ত দই বা দুধ রাখুন।

২. সাদা চাল ও রুটি কম খান, সম্পূর্ণ শস্য বেছে নিন: সাদা চাল বা রুটি দ্রুত রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা শরীরে চর্বি জমানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এর পরিবর্তে বাদামি চাল, ওটস, গমের রুটি ও বার্লি খেতে পারেন। এগুলো ফাইবারে সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্যকর।

৩. চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়ান: সোডা, প্যাকেটজাত জুস বা মিষ্টিগুলোতে থাকা খালি ক্যালোরি দ্রুত চর্বি জমানোর কারণ। তার বদলে তাজা ফল, দই ও সাধারণ পানি বেছে নিন।

৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা আবশ্যক। খাবারের আগে পানি পান করলে এটি ফোলাভাব কমায় এবং মেটাবলিজম ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

৫. ফাইবার ও প্রদাহ কমানো খাবার: ফাইবারযুক্ত ও প্রদাহবিরোধী খাবার পেটের চর্বি কমাতে অত্যন্ত সহায়ক। যেমন: পালং শাক, বিভিন্ন সবজি, বেরি ও মটরশুঁটি, মাছ, বাদাম এবং অলিভ অয়েল।

৬. পর্যাপ্ত ঘুম ও চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন: কম ঘুম এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা সরাসরি পেটে চর্বি জমায়। দিনে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। পাশাপাশি যোগব্যায়াম, ধ্যান বা গভীর শ্বাসচর্চা করে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৭. হালকা শারীরিক কার্যকলাপ করুন: যদি জিমে যাওয়া বা কঠোর ব্যায়াম সম্ভব না হয় তবে, দৈনিক ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটুন বা যোগ ব্যায়াম, পিলাতেস বা হালকা সাইকেলিং করুন।

৮. ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বিবেচনা করুন: চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ১৬:৮ পদ্ধতির ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অনুসরণ করতে পারেন। এটি ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে এবং ফ্যাট বার্নিং বাড়াতে সাহায্য করে।

৯. নিয়মিত থাইরয়েড পরীক্ষা করুন: সঠিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি থাইরয়েডের জন্য টিএসএইচ, টি৩ ও টি৪ পরীক্ষা করা এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের ডোজ ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ডোজই ওজন নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি। ধৈর্য ধরে এই অভ্যাসগুলো মানলে, থাইরয়েড রোগীরাও ধীরে ধীরে ওজন কমাতে পারেন।