ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ০৮:০০ পিএম
দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি প্রচলিত ধারণা চলে আসছে যে, মাছ খাওয়ার পর দুধ বা কোনো দুগ্ধজাত খাবার খেলে শরীরে সাদা দাগ পড়তে পারে, এমনকি শ্বেতী রোগ পর্যন্ত হতে পারে। এই ভয়ের কারণে অনেকেই মাছ খাওয়ার পর দই, আইসক্রিম কিংবা অন্য দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলেন।
তবে এই প্রচলিত ভীতির পেছনে আদৌ কোনো বৈজ্ঞানিক সত্যতা আছে কি না, তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদদের মতামত নিয়ে তৈরি হওয়া সেই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মাছ ও দুধ একসঙ্গে গ্রহণের বিষয়টি যতটা ভয়াবহ বলে মনে করা হয়, বাস্তবে তা ততটাই সহজবোধ্য।
আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, এই দুই খাবারের সংমিশ্রণ স্বাভাবিকভাবে মোটেও ক্ষতিকর নয়। বরং শ্বেতী বা ভিটিলিগো আসলে একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাই ত্বকের রঙ তৈরির কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। খাদ্যতালিকায় মাছ বা দুধের মতো নির্দিষ্ট কোনো খাবার থাকার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, মাছ ও দুধ একসঙ্গে খাওয়ার ফলে শ্বেতী রোগ হয়—এটি বৈজ্ঞানিকভাবে একটি ভুল ধারণা এবং কুসংস্কার।
পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মাছ ও দুধের সংমিশ্রণ সম্পূর্ণ নিরাপদ। পৃথিবীর বহু জনপ্রিয় খাবারেই এই সংমিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ ক্ল্যাম চাউডার বা সিশেল স্যুপের কথা বলা যেতে পারে, যেখানে মাছ বা শেলফিশের সঙ্গে দুধ ও ক্রিম ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ফ্রাইড ফিশের সঙ্গে মেয়োনিজ বা দইয়ের সস পশ্চিমা খাদ্য সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিনের প্রচলিত। অর্থাৎ, বিশ্বজুড়ে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মাছ ও দুগ্ধজাত খাবার নির্ভয়ে খেয়ে আসছে।
তবে এই দুই খাবারের সংমিশ্রণে শ্বেতী রোগ হওয়ার ভয় ভুল হলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর কারণ হলো মাছের প্রোটিন দ্রুত হজম হয়, অন্যদিকে দুধের কেজিন প্রোটিন হজম হতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় নেয়। উভয় ধরনের উচ্চ প্রোটিন একসঙ্গে বা পরপর গ্রহণ করলে পেটের ওপর প্রোটিনের চাপ বেড়ে যেতে পারে। বিশেষত যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স আছে, তাদের গ্যাস, পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা অম্লতা দেখা দিতে পারে।
কিন্তু এটি শ্বেতী রোগ নয়, এটি শুধুই স্বাভাবিক হজমজনিত প্রতিক্রিয়া। ধারণা করা হয়, আগে খাবার সংরক্ষণের দুর্বল ব্যবস্থার কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়া মাছ বা দুধ একসঙ্গে খাওয়ার ফলে ত্বকে অ্যালার্জি বা র্যাশ দেখা দিত, আর সেই ছোপগুলোকেই মানুষ ভুলবশত শ্বেতী রোগ ধরে নেয় এবং কুসংস্কারটি প্রজন্ম ধরে ছড়িয়ে পড়ে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন