এপ্রিল ১, ২০২৬, ১১:১৮ এএম
নেত্রকোনায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। জেলায় এ পর্যন্ত নয় শিশুর শরীরে সংক্রামক এই রোগ শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে চারজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও বর্তমানে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও পাঁচ শিশু।
মঙ্গলবার বিকেলে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্ত শিশুদের বয়স ছয় মাস থেকে তিন বছরের মধ্যে হওয়ায় অনেক অভিভাবকের মধ্যেই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সদর উপজেলায় চারজন। এছাড়া পূর্বধলা ও আটপাড়ায় দুইজন করে এবং কলমাকান্দা উপজেলায় একজন শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে আনার হার বেড়েছে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই তাদের শরীরে হামের অস্তিত্ব মিলছে। আক্রান্তদের সিংহভাগই শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু। এদের জন্য হাসপাতালে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন শিশুদের প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর অভিভাবক ফুলন রাণী সরকার জানান, তার শিশুর তিন দিন ধরে প্রচণ্ড জ্বর ছিল। পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে হামের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তার অভিযোগ, আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকলেও অনেক প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছেশিশু বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান খান এই সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে বর্তমানে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল, প্যারাসিটামল সিরাপ, অ্যান্টিবায়োটিক ও চোখের ড্রপের সরবরাহ নেই। ফলে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুরাই মূলত এই রোগের প্রধান ঝুঁকিতে রয়েছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় সময়মতো টিকা না নিলে এটি শিশুদের জীবন সংকটাপন্ন করতে পারে। বিশেষ করে পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা বেশি দেখা দেয়।যদিও হাসপাতালের অক্সিজেন সরবরাহ এখন স্বাভাবিক রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। এ প্রসঙ্গে জেলা সিভিল সার্জন গোলাম মাওলা বলেন, আক্রান্ত শিশুদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে টিকার কোনো সংকট নেই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে নতুন করে কেউ আক্রান্ত না হয়।স্থানীয় সূত্র জানায়, সংক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অনেক বাবা-মায়ের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন জ্বর বা শরীরে কোনো র্যাশ দেখা দিলেই যেন দেরি না করে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া হয়।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন