অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা বিষাক্ত ধাতু মানবস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় অদৃশ্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বের একশো চৌরানব্বইটি দেশ নিয়ে এই বিশ্লেষণ পরিচালনা করেছে।
এতে দেখা গেছে, খাবারে থাকা আর্সেনিক ও সীসার মতো বিষাক্ত ধাতুগুলো খাদ্যজনিত মোট অসুস্থতার এক শতাংশেরও কমের জন্য দায়ী হলেও, খাদ্যজনিত মৃত্যুর প্রায় تہাত্তর শতাংশের সাথেই এগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। সাধারণত খাবারে মানুষ অসুস্থ হলে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসকে দায়ী করা হলেও, দীর্ঘমেয়াদে ভারী ধাতুর উপস্থিতি নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করে।
খাবারে ধাতব দূষণের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো কিছু ধাতু শরীরে প্রবেশ করলে বহু বছর ধরে জমে থাকে।
শরীরের পক্ষে এগুলো সহজে অপসারণ করা সম্ভব হয় না, বিশেষ করে সীসা হাড়ে জমা হতে থাকে। এর ফলে সীসার সংস্পর্শ প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধাতুগুলো সাধারণত ফুড পয়জনিং ঘটায় না, তবে দীর্ঘমেয়াদে এগুলো হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার এবং মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
এই বিষাক্ত ধাতুগুলো মূলত ফসলের জমির মাটি এবং সেচের পানির মাধ্যমে খাবারে প্রবেশ করে।
প্রাকৃতিক উৎস ছাড়াও খনি কার্যক্রম এবং শিল্প কারখানার দূষণ থেকে এগুলো ছড়ায়। যেমন আর্সেনিক পানির সাথে খুব সহজে মিশে যাওয়ায় মাটি থেকে পানিতে এবং সেখান থেকে ধানের গাছে প্রবেশ করে চালের দানায় জমা হয়। এ কারণেই এশিয়া মহাদেশে চাল আর্সেনিকের একটি অন্যতম বড় উৎস হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে পারদ বা মার্কারি সামুদ্রিক খাবারে মিথাইল মার্কারি আকারে পাওয়া যায়, যা ছোট শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, খাদ্যের মাধ্যমে ধাতু দূষণ রোধের প্রকৃত সমাধান হলো মানুষের কাছে খাবার পৌঁছানোর আগেই দূষণ বন্ধ করা।
তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ এবং শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা। অনেক উন্নয়নশীল দেশে শক্তিশালী জাতীয় নজরদারি ব্যবস্থা বা পর্যাপ্ত তথ্যভাণ্ডার না থাকায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা এবং বড় আকৃতির মাছ কম খাওয়ার মাধ্যমে ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন