মে ১৯, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
গবাদি পশুর শরীরে সীমাবদ্ধ থাকা ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস নিয়ে এবার বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে এই ভাইরাসটি ধীরে ধীরে মানুষের শরীরে প্রবেশের সক্ষমতা অর্জন করছে। আজ মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ তারিখে এই নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য সামনে এসেছে।
পশু খামারে কাজ করা কিছু মানুষের শরীরে ইতিমধ্যে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে।ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস মূলত চার ধরনের হয়ে থাকে, যার মধ্যে এ, বি, সি এবং ডি অন্তর্ভুক্ত।
এর আগে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ও বি মানুষের মধ্যে সাধারণ মৌসুমি ফ্লুর জন্য দায়ী ছিল। সোয়াইন ফ্লু কিংবা বার্ড ফ্লুও ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের ভিন্ন রূপ। তবে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি দীর্ঘ সময় ধরে কেবল গরু ও অন্যান্য গবাদি পশুর মধ্যেই শনাক্ত হচ্ছিল। সাম্প্রতিক গবেষণায় মানুষের শরীরে এর উপস্থিতি পাওয়ার পর থেকে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গবেষকেরা জানিয়েছেন যে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি একটি আরএনএ ভাইরাস। আরএনএ ভাইরাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি খুব দ্রুত নিজের রূপ পরিবর্তন বা মিউটেশন ঘটাতে পারে। এই ভাইরাসটি তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল এবং উচ্চ তাপমাত্রাতেও দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে সক্ষম। ফলে বিভিন্ন ধরনের আবহাওয়ায় এর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ভাইরাসটিও মূলত মানুষের শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে হাঁচি-কাশির সাহায্যে ছড়াতে পারে।
সংক্রমণের লক্ষণগুলো সাধারণ ফ্লুর মতোই হতে পারে যার মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্ট অন্যতম। আমেরিকার হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল, ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি এবং জার্মানির ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা এই ভাইরাসটি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। তাঁদের মতে, এটি এখনই মহামারির পর্যায়ে না গেলেও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অসুস্থ পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন