রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দৈনন্দিন জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার কয়েকটি সহজ উপায়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২৪, ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

দৈনন্দিন জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার কয়েকটি সহজ উপায়

আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য কেমন হবে তা হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস দ্বারাই নির্ধারিত হয়। সকালের শুরুটা কেমন হচ্ছে তা থেকে শুরু করে মানসিক চাপের মুখে আমরা প্রতি মুহূর্তে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছি, তার সবকিছুই মন ও কর্মক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সহজ কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে মানসিক শক্তি ও মনকে অনেকাংশেই সতেজ রাখা সম্ভব।

পর্যাপ্ত ও পরিমিত ঘুম শরীরের পাশাপাশি মনের সতেজতার জন্য অপরিহার্য একটি উপাদান। ঘুমের অভাব মানুষকে খিটখিটে, রাগান্বিত এবং অতিরিক্ত চিন্তিত করে তোলে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। সুস্থ মনের জন্য প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে ওঠার একটি নির্দিষ্ট সময় বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এর পাশাপাশি বিকেল তিনটার পর চা বা কফি পানের অভ্যাস পরিহার করা এবং শোবার ঘরটি শান্ত, পরিচ্ছন্ন ও কিছুটা ঠান্ডা রাখা ভালো।ভার্চুয়াল জগতে সারাক্ষণ অন্যের জীবনের চাকচিক্য দেখার নেতিবাচক প্রভাব মানসিক অস্থিরতা ও হতাশা বাড়িয়ে দেয়।

সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোর প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বিছানায় যাওয়ার সময় ফোন দূরে রাখা বা প্রয়োজনে অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। মানুষ স্বভাবতই সামাজিক জীব হওয়ায় ভালো বন্ধু বা আপনজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ কঠিন সময়ে মনে শক্তি জোগায়। কাজের ফাঁকে প্রিয় মানুষের সঙ্গে ছোট একটি ফোনালাপ বা অবসরে আড্ডা দেওয়ার পরিকল্পনা একাকিত্ব দূর করতে বড় ভূমিকা রাখে।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা হালকা ব্যায়াম শরীরে এক ধরনের ভালো হরমোন নিঃসরণ বাড়ায় যা সরাসরি মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কিছুটা সময় হাঁটা, যোগব্যায়াম করা কিংবা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার ফাঁকে শরীর টানটান করে নেওয়া রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গেও মস্তিষ্কের কার্যকারিতার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেরিজাতীয় ফল, কলা, লাল চালের ভাত ও ওমেগা-তিন সমৃদ্ধ তৈলাক্ত মাছ রাখা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সারাদিনে প্রচুর পানি পান করাও মস্তিষ্কের অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে।

সব দিন সবসময় সমান যায় না এবং কোনো দিন খুব খারাপ লাগলে জোর করে কাজ না করে নিজেকে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত। মন শান্ত করতে মেডিটেশন বা ধ্যানের অভ্যাস করা যেতে পারে, যেখানে স্রেফ চোখ বন্ধ করে বুক ভরে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া মানসিক চাপ দ্রুত কমিয়ে আনে। এ ছাড়া প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট খোলা আকাশের নিচে বা বারান্দায় সূর্যের আলো গায়ে লাগালে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয় যা মনকে সতেজ করতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

তবে এই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো কোনো জটিল মানসিক রোগের বিকল্প চিকিৎসা নয়। কোনো বড় মানসিক আঘাত বা প্রিয়জন হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে না পারলে কিংবা অতিরিক্ত ভয়, অবসাদ ও ঘুম-ক্ষুধার রুটিনে দীর্ঘস্থায়ী অনিয়ম দেখা দিলে অবশ্যই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।