জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব চরম আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯৩৮ জন এবং ১১৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৫১ জনের শরীরে এই রোগের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।রোববার (১৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগের তথ্য উঠে এসেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৪৮ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ১৪ হাজার ৪৩১ জন। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১৩৭ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫২১ শিশু।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৭৮৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের এবং ৬৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৯ জন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের তিনজন এবং সিলেট বিভাগের একজন রয়েছে। একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৪৬ জন হামের উপসর্গযুক্ত রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী রয়েছেন ৪৯ জন।
হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শিশুদের জ্বর, কাশি ও গায়ে লালচে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা টিকাদানের মাধ্যমেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। শিশুদের সুরক্ষায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। যারা এখনো টিকা সম্পন্ন করেননি, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন