রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কিডনি ভালো রাখতে দিনে কতটুকু পানি খাওয়া জরুরি?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৬, ২০২৫, ০৬:৩৪ পিএম

কিডনি ভালো রাখতে দিনে কতটুকু পানি খাওয়া জরুরি?

দেহের সুস্থতার অন্যতম শর্ত হলো কিডনি ভালো থাকা। কিন্তু অজান্তেই আমরা এমন অনেক ভুল করি, যার মারাত্মক প্রভাব সরাসরি এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির ওপর পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনির সবচেয়ে বড় শত্রু হলো পর্যাপ্ত পানির ঘাটতি। শরীরে পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ার অভ্যাসে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলস্বরূপ গেঁটে বাত, কিডনিতে পাথর কিংবা হার্টের জটিলতা পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।

রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের উপস্থিতি স্বাভাবিক হলেও, এর পরিমাণ অতিরিক্ত হয়ে গেলেই সমস্যা তৈরি হয়। সাধারণত এটি রক্তে মিশে কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু অ্যাসিডের পরিমাণ অতিরিক্ত হয়ে গেলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় তাকে ‘হাইপারইউরেসেমিয়া’ বলা হয়। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘদিন ধরে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তা থেকে গেঁটে বাত, কিডনিতে স্টোন বা পাথর, এমনকি হার্টের জটিলতা পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, কিডনি ভালো রাখার সবচেয়ে কার্যকরী ও প্রাকৃতিক উপায় হলো শরীরকে আর্দ্র রাখা, অর্থাৎ পর্যাপ্ত পানি পান করা। শরীরে ফ্লুইডের মাত্রা ঠিক থাকলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না এবং কিডনির কার্যকারিতাও স্বাভাবিক থাকে।

তারা বলেন, পানি হলো শরীরের প্রাকৃতিক ‘ডিটক্সিফায়ার’। এটি রক্তে ইউরিক অ্যাসিডকে পাতলা করে দেয়, ফলে অতিরিক্ত অ্যাসিড সহজেই কিডনির ছাঁকনি দিয়ে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু পানির ঘাটতি হলেই রক্তে অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং তা জোড়ায় জোড়ায় বা কিডনিতে জমে সমস্যা সৃষ্টি করে।গবেষণা ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দিনে পানির পরিমাণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণভাবে:

  • পুরুষদের: দৈনিক অন্তত ৮-৯ গ্লাস পানি পান করা উচিত।

  • নারীদের: দৈনিক ৭-৮ গ্লাস পানি পান করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, যাদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি এবং গেঁটে বাতের সমস্যা রয়েছে, তাদের দিনে অন্তত ২০০০ থেকে ৩০০০ মিলিলিটার (প্রায় ৮-১২ গ্লাস) পানি পান করা প্রয়োজন। তবে একসঙ্গে অনেকটা পানি না খেয়ে সারা দিনে অল্প অল্প করে চুমুক দিয়ে পান করাই সবচেয়ে কার্যকর। দিনের শুরুতে এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানিতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ডিটক্স প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয় এবং দিনটি সতেজভাবে শুরু করা যায়।