জুন ৮, ২০২৬, ১১:২৬ এএম
স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মেমোরি পূর্ণ হয়ে গেলে আমরা অপ্রয়োজনীয় কিছু ছবি নির্বাচন করে ডিলিট করে দিই। আমরা ভাবি মেমোরি খালি হয়ে গেল, কিন্তু প্রযুক্তির দুনিয়ায় ডিলিট করার অর্থ আমাদের ধারণার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। ডিলিট করার পর ছবিগুলো আসলে কোথায় যায়? এগুলো কি বাতাসে মিলিয়ে যায়, নাকি ফোনের ভেতরেই থেকে যায়?
যখন কোনো ছবি প্রথমবার ডিলিট করা হয়, সেটি আসলে পুরোপুরি মুছে যায় না। এটি শুধু সাধারণ গ্যালারি থেকে সরে গিয়ে ট্র্যাশ বা রিসাইকেল বিনে জমা হয়। অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনের গ্যালারিতে এটি রিলেটেড ডিলিটেড ফোল্ডার হিসেবে থাকে।
সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত ছবিগুলো এখানে সংরক্ষিত থাকে এবং যখন খুশি তখন সেখান থেকে ছবি ফিরিয়ে নেওয়া যায়।কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পর যখন ট্র্যাশ থেকে ছবিগুলো মুছে ফেলা হয়, তখন মনে হয় সেগুলো চিরতরে হারিয়ে গেছে। কম্পিউটার বা ফোনের স্টোরেজ অনেকটা বিশাল একটি আলমারির মতো।
এখানে শুরুতে একটি সূচিপত্র বা ইনডেক্স থাকে, যা দেখে বোঝা যায় ফাইলটি কোথায় আছে। যখন আপনি কোনো ছবি স্থায়ীভাবে ডিলিট করেন, অপারেটিং সিস্টেম মূল ছবিটি মুছে ফেলে না। সে শুধু ইনডেক্স থেকে ওই ছবির ঠিকানা বা পয়েন্টার মুছে দেয়।ফোন তখন ওই ছবির জায়গাটিকে খালি হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু ভেতরের আসল বাইনারি কোড বা শূন্য ও এক ঠিক আগের মতোই থেকে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় ওল্ড ডেটা। যতক্ষণ না ডিলিট হওয়া জায়গার ওপর নতুন কোনো ফাইল জমা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন ডেটা রিকভারি সফটওয়্যার ব্যবহার করে ওই লুকিয়ে থাকা বাইনারি ডেটা উদ্ধার করে ছবিটিকে ফিরে পাওয়া সম্ভব।
একবার পুরোনো ছবির ওপর নতুন কোনো ডেটা বা ফাইল বসে গেলে একে বলা হয় ওভাররাইটিং। একবার ওভাররাইট হয়ে গেলে সেই ছবি আর কোনোভাবেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ডিজিটাল দুনিয়ায় কোনো কিছুই সহজে হারিয়ে যায় না। তাই ফোন বিক্রি বা কাউকে দেওয়ার আগে শুধু ডিলিট করাই যথেষ্ট নয়। ডিভাইসটিকে সম্পূর্ণ ফ্যাক্টরি রিসেট করা উচিত। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন যে ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্যের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত ব্যাকআপ ব্যবস্থাপনা ও ক্লাউড সেটিংস পর্যালোচনা করা ডিজিটাল নিরাপত্তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন