জুন ১১, ২০২৬, ১২:১৬ এএম
বিশ্বকাপের উত্তেজনা টেলিভিশনের ছোট পর্দায় পুরোপুরি ধরা যায় না। বন্ধুরা মিলে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করার জন্য প্রয়োজন বিশাল পর্দা। বাড়িতে স্টেডিয়ামের অভিজ্ঞতা পেতে প্রজেক্টরের বিকল্প নেই। বাজারের বিভিন্ন মডেল থেকে সেরা ১০টি বাছাই করা হয়েছে।ম্যাগকিউবিক এইচওয়াই৩২০ পোর্টেবল প্রজেক্টরটি ফুল এইচডি অভিজ্ঞতার জন্য অন্যতম সাশ্রয়ী পছন্দ। এতে অ্যান্ড্রয়েড ১১ অপারেটিং সিস্টেম থাকায় আলাদা ডিভাইসের প্রয়োজন নেই। সরাসরি ওয়াই-ফাই দিয়ে ইউটিউব বা টফি অ্যাপে খেলা দেখা যায়। এতে রয়েছে ৩৯০ এএনএসআই লুমেন ব্রাইটনেস এবং অটো কি-স্টোন কারেকশন ফিচার।
শাওমি ওয়ানবো টি২ ম্যাক্স প্রজেক্টরটি বরফ-সাদা ডিজাইনের। এতে রয়েছে ফুল এইচডি রেজোলিউশন এবং ৪৫০ এএনএসআই লুমেন ব্রাইটনেস। ডলবি হাই-ফাই স্পিকার থাকায় আলাদা সাউন্ড সিস্টেমের প্রয়োজন পড়ে না। এর ডাস্ট-প্রুফ ডিজাইন প্রজেক্টরটিকে দীর্ঘস্থায়ী করে।চিয়ারলাক্স সি১২ অ্যান্ড্রয়েড প্রজেক্টরটি দিনের আলোতেও স্পষ্ট ছবি দিতে সক্ষম। এতে ৩৬০০ লুমেন ব্রাইটনেস এবং ফুল এইচডি রেজোলিউশন রয়েছে। ওয়্যারলেস স্ক্রিন মিররিং সুবিধা থাকায় ফোন থেকে সরাসরি খেলা প্রজেক্ট করা যায়।
এওএন এ৪৫ মডেলটি হোম সিনেমা তৈরির জন্য চমৎকার। এটি ২০০ ইঞ্চি পর্যন্ত বড় পর্দা তৈরি করতে পারে। এতে জেনুইন অ্যান্ড্রয়েড টিভি ওএস রয়েছে এবং অটো ফোকাস ফিচার ব্যবহার করা অত্যন্ত সহজ।ম্যাগকিউবিক এইচওয়াই৩০০ আল্ট্রা মিনি প্রজেক্টরটি হালকা ও বহনযোগ্য। যারা ভ্রমণে বা ছোট ঘরে খেলা দেখতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ। এতে ২৬০ এএনএসআই লুমেন ব্রাইটনেস এবং ব্লুটুথ সংযোগ সুবিধা রয়েছে।
হ্যাভিট পিজে২০২ মডেলটির কানেক্টিভিটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এতে এইচডিএমআই, ইউএসবি এবং ভিজিএ পোর্ট রয়েছে, ফলে ল্যাপটপ বা ডিশ বক্স সহজেই যুক্ত করা যায়। এটি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং এর ইমেজ সাইজ ২০০ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে।শাওমি ওয়ানবো মোজার্ট ১ প্রিমিয়াম সেগমেন্টের প্রজেক্টর। এর ৯০০ এএনএসআই লুমেন ব্রাইটনেস দিনের বেলাতেও উজ্জ্বল ছবি দেয়। এতে রয়েছে ডলবি অডিও এবং আল্ট্রা-হাই-ভোল্টেজ কুলিং সিস্টেম, যা দীর্ঘ ম্যাচ দেখার জন্য উপযোগী।
চিয়ারলাক্স সি৯ প্রজেক্টরটি বাংলাদেশের বাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এর বিশেষত্ব হলো বিল্ট-ইন টিভি পোর্ট, যা সরাসরি ডিশ ক্যাবল সংযোগ করতে দেয়। ২৮০০ লুমেন ব্রাইটনেস থাকায় এটি যেকোনো সময়ে ভালো পারফর্ম করে।এওএন একেওয়াই৯এস প্রফেশনাল প্রজেক্টরটি বড় হলরুম বা ক্লাবের জন্য উপযুক্ত। ৮৫০ এএনএসআই লুমেন ব্রাইটনেস এবং হেভি ডিউটি কুলিং ফ্যান থাকায় এটি একটানা অনেকক্ষণ চালানো যায়। এর ল্যাম্প লাইফ অনেক দীর্ঘ।
অপটোমা এক্স৪০০এলভিই প্রজেক্টরটি ডিএলপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে। ৪০০০ লুমেন ব্রাইটনেস থাকায় এটি অত্যন্ত উজ্জ্বল। এর ১৫ হাজার ঘণ্টা ল্যাম্প লাইফ এবং বিল্ট-ইন ১০ ওয়াট স্পিকার এটিকে প্রফেশনাল ব্যবহারের জন্য সেরা করে তুলেছে।প্রজেক্টর কেনার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। এএনএসআই লুমেন যত বেশি হবে, ছবি তত উজ্জ্বল হবে। অন্ধকার ঘরের জন্য ৪০০ লুমেন যথেষ্ট হলেও দিনের আলোর জন্য ৮০০ লুমেনের বেশি প্রয়োজন। ফুল এইচডি রেজোলিউশন এখন মানসম্মত। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম থাকলে আলাদা যন্ত্রের ঝামেলা থাকে না।
বাজেট অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। ৬ থেকে ৯ হাজার টাকার মধ্যে ম্যাগকিউবিক মডেলগুলো ভালো। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় চিয়ারলাক্স সি৯ বা ওয়ানবো টি২ ম্যাক্স পাওয়া যায়। প্রিমিয়াম বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা বাজেটে শাওমি মোজার্ট ১ বা অপটোমা এক্স৪০০এলভিই সেরা পছন্দ।সঠিক প্রজেক্টর বেছে নিলে বিশ্বকাপ দেখার অভিজ্ঞতা হবে স্টেডিয়ামের মতো। কেনার আগে অবশ্যই অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি এবং সার্ভিসের বিষয়টি নিশ্চিত করে নেয়া ভালো। ঘর এবং বাজেটের সাথে মানানসই প্রজেক্টরই হবে আপনার সেরা সঙ্গী।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন