রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

২০২৬ সালে কম বাজেটে সেরা গাড়ি কেনার গাইড ও নিয়মাবলী

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ১০:১৫ এএম

২০২৬ সালে কম বাজেটে সেরা গাড়ি কেনার গাইড ও নিয়মাবলী

মধ্যবিত্তের কাছে নতুন গাড়ি কেনার গাইড স্বপ্নের মতো হলেও ২০২৬ সালে এটি একটি প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মব্যস্ত জীবনে প্রতিদিনের যাতায়াত সহজ করতে কিংবা সপ্তাহের শেষে পরিবারের সাথে মানসিক চাপ দূর করতে যানবাহনের ভূমিকা এখন অনেক বেশি। তবে গাড়ি কেনার সময় বাজেট এবং মাসিক কিস্তির হিসাব মেলাতে গিয়ে অধিকাংশ মানুষ ভুল সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন। 

প্রচলিত নিয়মে আয়ের মাত্র ১০ শতাংশ গাড়ির পেছনে খরচের কথা বলা হলেও বাস্তবে এটি মধ্যবিত্তের জন্য অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়ে।ঋণের বোঝা যত কম রাখা যায় ততই ভালো।বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুনদের জন্য পুরোনো বা ব্যবহৃত গাড়ির চেয়ে সরাসরি শোরুম থেকে নতুন গাড়ি কেনা অনেক বেশি নিরাপদ। ব্যবহৃত যানে অনেক সময় গোপন ত্রুটি বা স্থানীয় যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনের ঝুঁকি থাকে যা সাধারণ ক্রেতারা সহজে ধরতে পারেন না। বর্তমান সময়ে সঠিক গাড়ি কেনার গাইড অনুযায়ী নিরাপদ যাতায়াতের জন্য গাড়িতে এবিএস, ইবিডি,  (ছয়টি) এয়ারব্যাগ এবং পেছনের এসি ভেন্টের মতো মৌলিক ফিচার থাকা অত্যন্ত জরুরি। 

অন্যদিকে প্যানোরামিক সানরুফ বা এডাসের মতো আধুনিক সুবিধাগুলো আকর্ষণীয় মনে হলেও দেশের সাধারণ সড়ক এবং আবহাওয়ার কারণে এগুলো অনেক সময় বাড়তি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও জ্বালানি অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গতি এবং নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় লিনিয়ার এক্সিলারেশন সমৃদ্ধ স্বাভাবিক ইঞ্জিন বেশি কার্যকরী হলেও মহাসড়কে টার্বো চার্জড ইঞ্জিন বেশি আনন্দ দেয়।জ্বালানি হিসেবে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বাজারে ধীরে ধীরে বাড়ছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে প্রায় ২০ হাজার বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হলেও মার্চ মাসে তা ২০ শতাংশ বেড়ে ২৪ হাজার৭১৬ ইউনিটে পৌঁছেছে। তবে দীর্ঘ চার্জিং সময় এবং পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশনের অভাবে অনেকে এখনো এই প্রযুক্তিতে আস্থা পাচ্ছেন না। যেখানে সাধারণ ফাস্ট চার্জারেও ব্যাটারি চার্জ হতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে, সেখানে চীনের বিওয়াইডি কোম্পানি এমন ব্লেড ব্যাটারি এনেছে যা মাত্র ৫ থেকে ৯ মিনিটে সম্পূর্ণ চার্জ হতে পারে। এছাড়া পেট্রোল ইঞ্জিন দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করার নতুন প্রযুক্তিও বাজারে আসছে যা একবার জ্বালানি ভরে প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ চলার সুবিধা দেবে। আগামী ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে দেশে প্রায় ১ লাখ চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

আজকাল বাজারে অটোমোবাইল কোম্পানিগুলোর মধ্যে পার্টনারশিপের মাধ্যমে একই গাড়ির রিব্র্যান্ডিং করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেমন মারুতির এরটিগা বা ব্যালিনো গাড়িগুলো টয়োটা কোম্পানি নিজেদের লোগো লাগিয়ে রুমিয়ন ও গ্লানজা নামে ভিন্ন দামে বিক্রি করছে। অনেক সময় বিভিন্ন দেশীয় ব্র্যান্ডের গাড়িতে প্যানেল গ্যাপ বা অসম জোড়াতালি দেখা যায় যা মূলত উৎপাদন খরচ কমানো এবং দুর্বল কোয়ালিটি কন্ট্রোলের প্রমাণ দেয়। অতীতে টাটা ন্যানো সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা গাড়ি হলেও নস্টালজিয়ার ওপর ভর করে থাকা ঐতিহ্যবাহী হিন্দুস্তান মোটরস কেবল লেবার প্রবলেম ও নতুন ফেসলিফটের অভাবে বাজার থেকে হারিয়ে গেছে।

১০ লাখ টাকা বাজেটের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও নির্ভরযোগ্যতার জন্য মারুতি ব্রেজার মতো গাড়ি বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে যারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তাকে প্রধান অগ্রাধিকার দেন তারা টাটা নেক্সন কিংবা এক্সইউভি ৩এক্সও বিবেচনা করতে পারেন। শহরের যানজটে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর জন্য ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশনের চেয়ে (অটোমেটিক) গাড়ি হাঁটু ও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি আরামদায়ক। এছাড়া সরকারি ও নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এখন পুরো দেশে একই নম্বর প্লেট ব্যবহারের বিশেষ বিএইচ সুবিধা চালু রয়েছে। সঠিক গাড়ি কেনার গাইড অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ফিচার যাচাই করে বিনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।