জুন ২৫, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
লোডশেডিং ও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিলের স্থায়ী সমাধান হিসেবে সোলার সিস্টেম এখন একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। সঠিক কারিগরি জ্ঞানের অভাবে অনেকেই ভুল উপাদান কিনে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। সোলার সেটআপ করার আগে ইনভার্টার, ব্যাটারি, প্যানেল এবং সঠিক ইনস্টলেশন পদ্ধতি নির্বাচন করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।সোলার সিস্টেমের মস্তিষ্ক হলো ইনভার্টার। এটি সোলার এবং ব্যাটারির ডিসি বিদ্যুৎকে ঘরের ব্যবহারের উপযোগী এসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে। বাজারে সাধারণত অন-গ্রিড, অফ-গ্রিড এবং হাইব্রিড ইনভার্টার পাওয়া যায়। অন-গ্রিড সিস্টেমে ব্যাটারি থাকে না, দিনে সরাসরি লোড চলে এবং বাড়তি বিদ্যুৎ সরকারি লাইনে যায়।
তবে গ্রিডের বিদ্যুৎ চলে গেলে অন-গ্রিড ইনভার্টার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।অফ-গ্রিড সিস্টেম সম্পূর্ণ ব্যাটারি ব্যাকআপের ওপর নির্ভরশীল। আর বর্তমান প্রযুক্তির সবচেয়ে স্মার্ট ইনভার্টার হলো হাইব্রিড। এতে অন-গ্রিড এবং অফ-গ্রিড দুটি সিস্টেমেরই সুবিধা থাকে। মেইন লাইনে ২৮০ থেকে ২৯৪ ভোল্টের মতো বিপজ্জনক হাই-ভোল্টেজ চলে আসলে এই স্মার্ট ইনভার্টারগুলো মেইন লাইন থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এতে মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী সুরক্ষিত থাকে।
সোলার লাগানোর পরও বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ বিলের মুখোমুখি হন অনেকে। কারণ তাদের ইনভার্টার মেইন লাইনের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করে। গ্রোওয়াট ছয় হাজার ওয়াটের মতো আধুনিক ইনভার্টারের সঠিক সেটিংসের মাধ্যমে এই খরচ সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।আউটপুট সোর্স প্রায়োরিটি বা এসবিইউ মোড চালু করলে ইনভার্টার প্রথম পছন্দ হিসেবে সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ নেবে। সোলার না থাকলে ব্যাটারি থেকে লোড চালাবে এবং দুটিই ফেল করলে মেইন লাইন থেকে ব্যাকআপ নেবে। বিদ্যুৎ বিল বাঁচাতে চার্জার সোর্স প্রায়োরিটি বা ওএসও মোড সেট করতে হবে। এর অর্থ হলো মেইন লাইনের বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, ব্যাটারি শুধু সোলারের উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়েই চার্জ হবে।
টানা কয়েক দিন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকলে ইনভার্টার গ্রিড লাইন চালু করে শুধু অফিসের কম্পিউটার ও লাইট চালাবে। ব্যাটারির দিকে এক ফোঁটা কারেন্টও পাঠাবে না। পরের দিন সকালে সোলারে আলো আসলে শুধু তা দিয়েই আবার চার্জ হবে।সাধারণ সময়ে একটি অফিসে বা বাড়িতে কম্পিউটার, লাইট ও ফ্যান মিলিয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ ওয়াট লোড থাকে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ফ্যান চালানোর প্রয়োজন হয় না। শীত বা বৃষ্টির দিনে ফ্যান বন্ধ থাকার কারণে অফিসের মূল লোড এক ধাক্কায় কমে ২০০ থেকে ৩০০ ওয়াটে নেমে আসে।
লোড এত কমে যাওয়ার কারণে ব্যাটারির ওপর চাপ বহুগুণ কমে যায়।ফলে আকাশ মেঘলা থাকলেও এই সামান্য লোড নিয়ে সোলার সিস্টেম নিরবচ্ছিন্ন ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। সোলার প্যানেল নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে এন-টাইপ এবং বাসবারলেস বা জিরো বিবি প্যানেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। একমুখী বা মনোফেসিয়াল প্যানেলগুলো শুধু সামনের পিঠ দিয়ে সূর্যের আলো শোষণ করে।
আর দ্বিমুখী বা বাইফেসিয়াল প্যানেলের সামনে ও পেছনে দুপাশেই গ্লাস ও সেল থাকে। এটি সামনের দিক থেকে মূল বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পেছনের অংশ দিয়ে প্রতিফলিত আলো থেকে আরও ১০ থেকে ২৫ শতাংশ বাড়তি বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে। বাসবারলেস প্যানেলে সুক্ষ্ম তারের জাল ব্যবহার করায় সূর্যের আলো বেশি পড়ে এবং স্থায়িত্ব বাড়ে।প্যানেল কোথায় স্থাপন করা হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে কার্যকারিতা ভিন্ন হয়। বিল্ডিংয়ের পাকা ছাদে লোহার বা অ্যালুমিনিয়ামের উঁচু স্ট্রাকচার ব্যবহার করে ছাদ থেকে অন্তত তিন থেকে চার ফুট উঁচুতে বসানো যায়।
প্যানেলগুলোর মুখ দক্ষিণ দিকে এবং ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি কোণে কাত করে বসাতে হবে। উঁচু স্ট্রাকচারের কারণে নিচে আলো প্রতিফলিত হওয়ার জায়গা থাকে, ফলে বাইফেসিয়াল প্যানেলের বাড়তি বিদ্যুতের সুবিধা শতভাগ পাওয়া যায়।টিনের ছাদে অ্যালুমিনিয়ামের মিড ক্ল্যাম্প এবং অ্যাডজাস্টেবল ইউ-চ্যানেল ব্যবহার করে টিনের ঢালের সাথে বসানো হয়। সমান্তরালভাবে বসানোর কারণে পেছনের গ্লাসে আলো যাওয়ার জায়গা থাকে না। তাই বাইফেসিয়াল প্যানেল এখানে সাধারণ একমুখী প্যানেলের মতোই কাজ করে।
ইউ-চ্যানেল ব্যবহারের ফলে টিন ও প্যানেলের মাঝে তিন থেকে চার ইঞ্চি ফাঁকা জায়গা থাকে, যা প্যানেলকে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করে। টিনের ওপর স্ক্রু করার সময় ইপিডিএম রাবার ওয়াশার এবং সিলিকন গাম ব্যবহার করতে হবে যেন পানি না পড়ে।দিনাজপুরের বীরগঞ্জ তথা উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় সোলার প্যানেল কখন কেমন কাজ করবে তার একটি বাস্তবমুখী চিত্র রয়েছে। সকাল ১১টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত কার্যকারিতা ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ থাকে। সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কার্যকারিতা ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ। ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা এবং বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত কার্যকারিতা নেমে আসে ১০ থেকে ৩০ শতাংশে।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টার পর প্যানেল কোনো বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে না।শীতকালের ভোরে তীব্র কুয়াশায় উৎপাদন কমে ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নামে। তবে ফ্যান বন্ধ থাকায় অফিসের লোডও কমে যায় বলে সিস্টেম সচল থাকে। দুপুর ১২টার পর কুয়াশা কেটে রোদ উঠলে পুনরায় ভালো উৎপাদন ফেরে এবং ভারী বৃষ্টির পর উজ্জ্বল মেঘলা আকাশ থেকে ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আধুনিক প্যানেলগুলো। সোলার সিস্টেম করার সময় শুধু প্যানেলের ওয়াটের দিকে নজর না দিয়ে ইনভার্টারের সেটিংস এবং প্রোটেকশন ফিচারের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
কেউ উন্নত প্রযুক্তির সোলার প্যানেল কিনতে চাইলে সরাসরি আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোলার সিস্টেম বিডির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তাদের ঠিকানা ১২৪০/এ, পশ্চিম কাজীপাড়া, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬। মোবাইল নম্বর ০১৯৯০৭৯৬৯২২ এবং ইমেইল সোলারসিস্টেমবিডিঢাকা অ্যাট জিমেইল ডট কম। বিস্তারিত জানতে সোলারসিস্টেমবিডি ডট কম ওয়েবসাইটেও ভিজিট করা যাবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন