রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মানুষের সব কাজ কেড়ে নিতে আসছে নতুন প্রযুক্তি, কী বললেন মাস্ক

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

জুলাই ৩০, ২০২৬, ১১:২০ এএম

মানুষের সব কাজ কেড়ে নিতে আসছে নতুন প্রযুক্তি, কী বললেন মাস্ক

ছবি: দিনাজপুর টিভি গ্রাফিক্স

ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সামগ্রিক বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে। দ্য ইকোনমিস্ট সাময়িকীকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বিশ্বের এই শীর্ষ ধনী প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ ও বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে এমন দাবি করেছেন।আগামী দশ বছরের মধ্যে মানুষের কোনো কাজ আর বাধ্যতামূলক থাকবে না।প্রযুক্তিগত এই চরম পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীতে অভাবনীয় প্রাচুর্য আসবে। 

তার মতে, তখন কাজ করাটা অনেকটা শখের বাগান করার মতো বিষয়ে পরিণত হবে। মানুষ চাইলে কাজ করবে। না চাইলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রিত মানবাকৃতির রোবট মানুষের দৈনন্দিন সব প্রয়োজন মিটিয়ে দেবে। মুদ্রাস্ফীতির বদলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তখন উল্টো মূল্যহ্রাসের প্রবণতা দেখা যাবে, কারণ অর্থের চেয়ে পণ্য ও সেবার উৎপাদন বহুগুণ বাড়বে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুরক্ষার বিষয়েও নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত নিজেদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা করা। কোনো নতুন ও অত্যন্ত শক্তিশালী প্রযুক্তি উন্মুক্ত করার আগে প্রতিযোগীদের তা পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া উচিত। কোনো প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা ঝুঁকি অবহেলা করলে তখন সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে অনেক এগিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। উন্নত চিপের সংকট থাকলেও তাদের বিপুল বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এই খাতে সবচেয়ে বড় সুবিধা দিচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ভারতের সম্মিলিত বিদ্যুতের চেয়েও চীনের উৎপাদন বেশি, যা ভবিষ্যতে তাদের প্রযুক্তিগত আধিপত্যের প্রধান চালিকাশক্তি হতে যাচ্ছে।

টেসলা ও স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানে নিজের একক আধিপত্য বজায় রাখার যৌক্তিকতাও তুলে ধরেন তিনি। শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা সাধারণত তিন মাসের তাৎক্ষণিক লাভের দিকে তাকিয়ে থাকেন। কিন্তু মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের মতো বড় প্রকল্পে পাঁচ থেকে দশ বছরের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। এই কারণেই তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন।যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি। 

তার মতে, সরকারি অর্থের বিশাল অংশ অপ্রয়োজনীয় খাতে নষ্ট হচ্ছে, যা কমানো গেলে দেশের অর্থনীতির ভিত শক্ত হবে। সহায়তা তহবিলের নামে বিভিন্ন ভুয়া সংগঠনের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও তিনি কঠোরভাবে সমালোচনা করেন।যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তার ধারণা, সেখানে অভিবাসনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংকট তীব্র হতে বিশ বছর লাগলেও, আগামী দশ বছরের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চূড়ান্ত আধিপত্য পুরো বিশ্বের বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে।