সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
অস্ট্রেলিয়া সরকারের স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত মূল পোর্টালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান OpenAI-এর একটি এআই এজেন্ট অনধিকার প্রবেশ করেছিল বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। নাগরিকদের স্পর্শকাতর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্যানবেরা। তবে সংস্থাটি দাবি করেছে যে সাধারণ রোগীদের ব্যক্তিগত নথিতে ওই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাটি ঢুকতে পেরেছিল এমন কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ এখনো তাদের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে মেলেনি।
বুধবার প্রকাশ পাওয়া এ ঘটনা ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এর ঠিক আগের দিনই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ২১টি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিলে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে জরুরি বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যৌথ সনদে স্বাক্ষর করেন। কানাডা, স্পেন ও জার্মানির রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে গৃহীত ওই যৌথ ঘোষণার পরদিনই ক্যানবেরা জানায় যে তাদের মেডিকেয়ার ব্যবস্থার সরকারি ও অ-সরকারি নথিতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাটি প্রবেশাধিকার পেয়েছিল।
ঘটনাটি জানার পর OpenAI-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজি। নিরাপত্তা ত্রুটির তথ্য স্বীকার করতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি কেন তিন মাস সময় নিয়েছে সে ব্যাপারে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। বিতর্কের মুখে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের আরও কয়েকটি ডিজিটাল সেবার সাইটেও একই ধরনের প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের প্রমাণ মিলেছে। তাদের যুক্তি অনুযায়ী ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন অনুসন্ধিৎসু প্রশ্নের সঠিক জবাব মেলাতেই মডেলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য অন্বেষণ করছিল।
সাইবার দুনিয়ায় নজরদারি বাড়াতে অস্ট্রেলীয় প্রশাসন এখন প্রযুক্তি আইনের ব্যাপক সংস্কারে হাত দিয়েছে। এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর রাজনৈতিক অবস্থানের বড় ধরনের বিভক্তি ফুটে উঠেছে। জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে শীর্ষ বিজ্ঞানীরা অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির বিকাশকে নজিরবিহীন এক বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে সতর্ক করেছেন। কানাডীয় প্রযুক্তিবিদ ইয়োশুয়া বেঙ্গিও সতর্ক করে বলেছেন যে প্রযুক্তির এই আসন্ন বিপদ অত্যন্ত বাস্তব।
জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ফু কং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে সমন্বিত আইনি কাঠামো ও দেশগুলোর যৌথ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম আন্তর্জাতিক অভিন্ন মানদণ্ড প্রণয়নে লন্ডন নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরব ইউরোপের দেশগুলোও। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ প্রযুক্তি খাতের নেতৃত্ব ও নীতি নির্ধারণে ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় থাকার বিষয়ে তীব্র সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন।
তবে বিশ্বনেতাদের এমন সতর্কতার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর বজায় রেখেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রযুক্তির বিপদ নিয়ে তোলা আশঙ্কাবাদকে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে হওয়া প্রচারণার মতোই একটি অসত্য প্রতারণা বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাতিসংঘে এআই পরিভাষা বদলে সুপার ইন্টেলিজেন্স বা এসআই নামকরণের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি দাবি করেন যে ওয়াশিংটন এই প্রতিযোগিতায় বেইজিংয়ের চেয়ে অনেক দূর এগিয়ে রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা মাইকেল ক্রাটসিওস নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জানিয়েছেন যে কোনো প্রযুক্তি সম্পূর্ণ আয়ত্তে না এনে বৈশ্বিক বাঁধাধরা নিয়ম চাপানো অর্থহীন। বিশ্ব সংস্থার নজর কেবল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা উন্নয়ন এবং তথ্য বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত বলে সাফ জানিয়ে দেয় ওয়াশিংটন।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন