সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
পারিবারিক দায়িত্ব ও ঘরোয়া পরিবেশ সামলিয়ে ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত বাজার বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। বৈশ্বিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মেধার সঠিক মূল্যায়নের সুযোগ থাকায় সঠিক পরিকল্পনা, কাজের একাগ্রতা এবং ধৈর্য ধরে অগ্রসর হলে যেকোনো নারী একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন।
প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা এই খাতে নারীদের অগ্রগতিকে দ্রুততর করছে। কাজের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা, পরিবারের কাজের সাথে পেশাগত জীবনের চমৎকার ভারসাম্য এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ঘরে বসেই সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা বা মার্কিন ডলার উপার্জনের সুযোগ নারীদের এই পেশায় সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে। বিশেষ করে কনটেন্ট রাইটিং বা নিবন্ধ ও ব্লগ লেখা, ছবি ও লোগো তৈরির গ্রাফিক ডিজাইন, অনলাইন প্রচার ও সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বা ডিজিটাল মার্কেটিং এবং তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও দূরবর্তী সেবাদানকারী হিসেবে ডেটা এন্ট্রি ও ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজগুলো নারীদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং পেশায় প্রতিষ্ঠা পেতে প্রাথমিক প্রস্তুতি ও সুনির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
একসাথে অনেকগুলো কাজ শেখার চেষ্টা না করে যেকোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করে বিশেষজ্ঞ হওয়া জরুরি। এর পাশাপাশি একটি কার্যকর ল্যাপটপ বা কম্পিউটার এবং নিরবচ্ছিন্ন দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কাজ শেখার সময় যে পরীক্ষামূলক কাজ বা ডেমো ফাইল তৈরি হয়, তা দিয়ে একটি পরিপাটি পোর্টফোলিও বা কাজের নমুনা সংগ্রহ তৈরি করে রাখা ক্লায়েন্ট পাওয়ার প্রধান মাধ্যম। বিদেশি বা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগের জন্য ইংরেজি ভাষার মৌলিক জ্ঞান এবং ডিজিটাল মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান ও ইমেইল লেখার দক্ষতা অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সংসার, সন্তান বা পড়াশোনার পাশাপাশি পেশাদার কাজ পরিচালনা করতে সময় ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।সারাদিন যেকোনো সময় এলোমেলোভাবে কাজ না করে প্রতিদিন সকালে কিংবা রাতে সুবিধাজনক সময়ে টানা তিন ঘণ্টার মতো একটি নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নির্ধারণ রাখা ভালো। কাজের তালিকা বা করণীয় কাজের খসড়া একটি ডায়েরি অথবা সফটওয়্যারে আগেই লিখে রাখা উচিত। কাজের সার্বিক মনোযোগ ধরে রাখতে বিখ্যাত পোমোডোরো পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে, যেখানে টানা ২৫ মিনিট পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করার পর পাঁচ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি নিয়ে ক্লান্তি দূর করা হয়। এছাড়া কাজের নির্ধারিত সময়ে কেউ যাতে অহেতুক বিঘ্ন না ঘটায়, সে জন্য পরিবারের সদস্যদের সাথে আগে থেকেই কথা বলে তাদের সহযোগিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বৈশ্বিক বাজারে কাজের প্রতিযোগিতা বেশি থাকায় নির্দিষ্ট বা মাইক্রো-নিচ কাজের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সাধারণভাবে পুরো ডিজিটাল মার্কেটিং না শিখে শুধু ইনস্টাগ্রামের প্রচার বা নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন প্রচারের বিশেষজ্ঞ হওয়া যায়। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট কাজ, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ বা ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মতো আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চ আয়ের কাজে দ্রুত সফলতা পাওয়া সম্ভব। আন্তর্জাতিক অনলাইন মাধ্যমে কাজ পেতে নিজস্ব পোর্টফোলিও প্রফেশনাল ওয়েবসাইটে সাজিয়ে রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা ও ছোট বিশ্লেষণ প্রকাশ করলে প্ল্যাটফর্মের বাইরে থেকেও সরাসরি বিদেশি ক্রেতা বা ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়। শুরুর দিকে দরপত্র জমা দেওয়ার পরও কাজ না পাওয়া বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়লে মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে হবে।
হতাশ না হয়ে সফলদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং ক্লায়েন্টদের সাথে সবসময় বিনয়ী ও সৎ যোগাযোগ রক্ষা করা দরকার। মনোযোগ অটুট রাখতে ঘরের একটি নির্দিষ্ট কোণায় টেবিল ও চেয়ার বসিয়ে কাজের উপযুক্ত পেশাদার পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নারী উদ্যোক্তা প্রকল্প, সরকারি ও বেসরকারি মেন্টরশিপ এবং বিভিন্ন নারী ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটির সাথে যুক্ত থাকলে নতুন কাজের তথ্য ও সমস্যার দ্রুত সমাধান পাওয়া সহজ হয়। পারিবারিক সহযোগিতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে ডিজিটাল যুগে যে কেউ এই পেশায় নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন