সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১০:০৪ এএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা এবার পৃথিবীর ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে মহাকাশের কক্ষপথে বিস্তৃত হচ্ছে। নিজেদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশেষ চিপ মহাকাশে পাঠিয়ে সেগুলোর কার্যক্ষমতা সরাসরি পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট Google। প্রতিষ্ঠানটি ‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’ শীর্ষক এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি পরীক্ষামূলক কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পাঠাতে যাচ্ছে।
গুগলের টেনসর প্রসেসিং ইউনিট বা TPU-তে ব্যবহৃত এআই চিপগুলো মহাকাশের বৈরী পরিবেশে কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে পারে, তা যাচাই করাই এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য। স্যাটেলাইটটি যৌথভাবে নির্মাণের জন্য গুগল কাজ করছে মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেটের সাথে। আগামী ১ অক্টোবর স্পেসএক্সের ট্রান্সপোর্টার-১৮ রাইডশেয়ার অভিযানের মাধ্যমে এই কৃত্রিম উপগ্রহটি মহাকাশের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণের প্রাথমিক সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথম এই পরীক্ষামূলক উপগ্রহটিতে গুগলের চারটি TPU চিপ যুক্ত থাকবে। উৎক্ষেপণের সময়ের প্রচণ্ড কম্পন সামলানোর পর চিপগুলোকে তীব্র মহাজাগতিক বিকিরণ ও তাপমাত্রার চরম ওঠানামার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। পৃথিবীতে পরীক্ষাগারের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের পর এবার সরাসরি মহাকাশের বাস্তব পরিবেশে চিপগুলোর স্থায়িত্ব ও দক্ষতা মূল্যায়ন করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি। মহাকাশে চিপ পাঠানোর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত পরিকল্পনা রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে উপগ্রহগুলো প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে সূর্যের আলো পায়। ফলে সেখানে সৌরশক্তিকে সরাসরি কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বিশাল আকারের ডেটা সেন্টার বা কম্পিউটিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন প্রকৌশলীরা।
কক্ষপথে প্রযুক্তিটি পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুতর প্রতিকূলতাও বিদ্যমান। পৃথিবীর ভূগর্ভস্থ ডেটা সেন্টারগুলোতে বাতাস বা বিশেষ তরল প্রবাহের মাধ্যমে প্রসেসরের অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু মহাশূন্যে কোনো বাতাস না থাকায় প্রচলিত কোনো উপায়ে চিপ ঠান্ডা রাখা সম্ভব নয়। এই সমস্যা সমাধানে বিশেষ হিট পাইপ ও রেডিয়েটর প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাপ নিষ্কাশনের নতুন কৌশল পরীক্ষা করছে গুগল।
পাশাপাশি মহাজাগতিক রশ্মি ও সৌর কণার তীব্র বিকিরণ সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে ত্রুটি বা বিকলতার ঝুঁকি বাড়ায়। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় কক্ষপথে পাঠানোর আগেই পরীক্ষাগারে কৃত্রিম উপায়ে বিকিরণ প্রয়োগ করে চিপগুলোর সহনশীলতা পরীক্ষা করা হয়েছে।
প্রাথমিক এই অভিযানটি মহাকাশে কোনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ডেটা সেন্টার চালুর পদক্ষেপ নয়। বরং মহাকাশের চরম পরিবেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপগুলো ঠিক কতটা কার্যকর থাকে, কোথায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয় এবং ভবিষ্যৎ প্রকৌশল কীভাবে সাজাতে হবে, সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা ও তথ্য সংগ্রহ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালে আরও দুটি কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে উচ্চগতির লেজার যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষা করার লক্ষ্য নিয়েছে গুগল। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে কক্ষপথে থাকা একাধিক উপগ্রহকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করে মহাকাশেই একটি সমন্বিত কম্পিউটিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন