নভেম্বর ১২, ২০২৫, ১২:০৩ পিএম
ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লা (রেড ফোর্ট) এলাকায় ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এই নাশকতার ঘটনায় দিল্লি মেট্রো গেটে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশে থাকা অন্তত ২২টি গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ঘটনার পরপরই রাজধানী দিল্লিসহ পুরো ভারতজুড়ে 'রেড অ্যালার্ট' জারি করেছে প্রশাসন।দিল্লি পুলিশের তথ্যমতে, একটি চলন্ত হুন্দাই আই-২০ (Hyundai i20) গাড়ির ভেতরে এই বিস্ফোরণ ঘটে, যেখানে তিনজন আরোহী ছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বিস্ফোরণ ঘটাতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল (ANFO) ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণত বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবহৃত হয়।
পুলিশ এই ঘটনার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন ‘জইশ-ই-মোহাম্মদ’ (JeM)-কে সন্দেহ করছে। তদন্তকারী সংস্থার সূত্র জানিয়েছে, পেশায় চিকিৎসক ডা. উমর মুহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি ফরিদাবাদ থেকে পালিয়ে এসে এই আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই হামলাকারী গাড়ির মূল মালিককে আটক করা হয়েছে।ভুটান সফরে থাকা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
থিম্পু থেকে এক ভাষণে তিনি বলেন, "ষড়যন্ত্রকারীদের রেহাই দেওয়া হবে না। এই ঘটনার জন্য দায়ী প্রতিটি ব্যক্তির বিচার হবে।" ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও দ্রুত তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে এবং আকাশ কমলা রঙের আগুনে ছেয়ে যায়।
২০০১ সালে সংসদ ভবনে হামলার পর দিল্লির কেন্দ্রস্থলে এমন ভয়াবহ হামলা বিরল। বর্তমানে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী হাসপাতালে অন্তত ৩০ জন আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে। ভারতের স্বাধীনতার প্রতীক লাল কেল্লায় এই হামলার ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন