ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৫:২০ পিএম
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া আবারও বড় ধরনের নিরাপত্তা বিতর্কের মুখে পড়েছে। সোমবার সকালে দিল্লি থেকে মুম্বাইগামী একটি বোয়িং ৭৭৭ বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই মাঝ আকাশে যান্ত্রিক গোলযোগের শিকার হয়। জানা গেছে বিমানটির ডান দিকের ইঞ্জিনে হঠাৎ তেলের চাপ কমে যাওয়ায় পাইলটরা মাঝপথেই সেটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিমানটি আর মুম্বাইয়ের দিকে না বাড়িয়ে দ্রুত দিল্লিতে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে পুরো ঘটনাটি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সংশ্লিষ্ট বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর বিমানটি প্রায় ১৫ বছরের পুরোনো এবং এটি নিয়মিত আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করে।
উড্ডয়নের পর যখন বিমানটি নির্ধারিত উচ্চতায় ওঠার জন্য গতি বাড়াচ্ছিল ঠিক তখনই ককপিটে তেলের চাপ হ্রাসের সংকেত পান পাইলটরা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই চাপ শূন্যে নেমে আসে যা ইঞ্জিনে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারত। তবে পাইলটদের সাহসিকতায় ইঞ্জিনটি দ্রুত শাট-ডাউন করে দিয়ে একক ইঞ্জিনের ওপর ভর করেই বিমানটি নিরাপদে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আধুনিক বিমান প্রযুক্তিতে একটি ইঞ্জিন দিয়েও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওড়া সম্ভব হওয়ায় বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি।
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে কারণ গত জুন মাসেই একটি ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই সংস্থাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কড়া নজরদারি চালিয়ে আসছে ডিজিসিএ। বারবার এ ধরনের কারিগরি ত্রুটি এবং পুরোনো বিমান দিয়ে যাত্রী পরিবহন করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র সমালোচনা চলছে। বর্তমানে বিকল বিমানটিকে গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে এবং ইঞ্জিনিয়ারা তেলের চাপ হ্রাসের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন। যাত্রীদের জন্য বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করা হলেও এভিয়েশন খাতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন