সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গৃহযুদ্ধ অবসানে জাতিসংঘের সমর্থন চাইলেন সুদানের প্রধানমন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ১১:১৬ এএম

গৃহযুদ্ধ অবসানে জাতিসংঘের সমর্থন চাইলেন সুদানের প্রধানমন্ত্রী

সুদানের দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ অবসানে একটি কার্যকর শান্তি পরিকল্পনায় সমর্থন দিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন।

সুদানের সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে এবং এই মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে নিরাপত্তা পরিষদকে এখনই “ইতিহাসের সঠিক পাশে দাঁড়াতে” হবে।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানি সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলা এই সংঘর্ষে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস তার বক্তব্যে একটি সুনির্দিষ্ট শান্তি প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের অবিলম্বে একটি সার্বিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে, যা জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়ন ও আরব লীগের যৌথ তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে।” তিনি শর্ত দেন যে, বিদ্রোহী মিলিশিয়াদের অবশ্যই তাদের দখলকৃত এলাকাগুলো থেকে সরে যেতে হবে। ইদ্রিস আরও উল্লেখ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন সময় অতিবাহিত হওয়ার পর সুদানে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা হবে, যার মাধ্যমে প্রকৃত ‘সুদানি সংলাপ’ এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য যে, সুদানের এই সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রচেষ্টা চললেও তা বারবার হোঁচট খাচ্ছে। গত নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমন্বয়ে গঠিত ‘কোয়াড’ জোটের আলোচনাও বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কামিল ইদ্রিসের জাতিসংঘ সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই সফরের সময় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি বলে জানা গেছে। সুদানের পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল বর্তমানে আরএসএফ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।