জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের সংস্থা ‘ইউএনআরডব্লিউএ’র ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ তুলে না নিলে ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) নেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সম্প্রতি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।
গত ৮ জানুয়ারি পাঠানো ওই চিঠিতে গুতেরেস স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইসরাইল যদি জাতিসংঘের এই সংস্থার জব্দ করা সম্পদ ফেরত না দেয় এবং তাদের কার্যক্রমের ওপর থেকে বাধা তুলে না নেয় তবে জাতিসংঘ চুপ করে থাকবে না।
এখানে বিষয়টি বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে কারণ ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট গত বছরের অক্টোবরে একটি বিতর্কিত আইন পাস করে।ওই আইনের মাধ্যমে ইসরাইলি ভূখণ্ডে ইউএনআরডব্লিউএ’র কাজ করা নিষিদ্ধ করা হয় এবং সরকারি কর্মকর্তাদের এই সংস্থার সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এখানেই শেষ নয় গত মাসে আইনটি সংশোধন করে সংস্থাটির কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহও বন্ধ করে দেয় ইসরাইল। এমনকি পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত জাতিসংঘের এই অফিসটিও জব্দ করে নিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ যা আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছে জাতিসংঘ।মহাসচিব তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে ইসরাইলের এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তার পরিপন্থী। তিনি অবিলম্বে এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এই চিঠিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে মহাসচিব ইসরাইলকে হুমকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। ইসরাইলের দাবি ওই সংস্থার কিছু কর্মী সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং এই সমস্যার সমাধান না করে ইসরাইলকে দোষারোপ করা হচ্ছে।আসলে পুরো পরিস্থিতি এখন মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন যে গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইউএনআরডব্লিউএ হলো মেরুদণ্ড।
এই সংস্থাকে কাজ করতে না দিলে গাজার লাখ লাখ বেসামরিক মানুষ মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হবে। ইতিপূর্বে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত মতামত দিয়েছিল যে গাজার জনগণের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা ইসরাইলের আইনি দায়িত্ব। এখন গুতেরেসের এই নতুন হুঁশিয়ারি ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও আইনি চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন