অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর চলমান আন্দোলন চরম রূপ নিয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনরত অন্য নেতাদের পাশাপাশি কংগ্রেসের শীর্ষ এই দুই নেতাকে জোরপূর্বক আটক করে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) একই দাবিতে অবস্থান ধর্মঘটে বসার কারণে গান্ধী পরিবারের এই দুই নেতাকে সাময়িকভাবে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
বুধবার দুপুরে দিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় কৌশল নির্ধারণী মধ্যাহ্নভোজ শেষ করেন বিরোধী সংসদ সদস্যরা।
এরপর তারা দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তরমন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে রওনা হলে পূর্বানুমতি না থাকার কারণ দেখিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা আটকে দেয় পুলিশ।
শুরুতে রাহুল গান্ধীসহ শীর্ষ নেতাদের আটক করে পুলিশের অপেক্ষমাণ একটি বাসে তোলা হয়।
কিন্তু পুলিশ যখন বাইরে থাকা অন্যান্য বিক্ষোভকারীদেরও আটক করতে শুরু করে, তখন ক্ষুব্ধ হয়ে বাস থেকে নেমে সরাসরি পিচঢালা রাস্তার ওপর বসে পড়েন বিরোধী জোটের নেতারা।
পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার রাস্তা ছেড়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা রাস্তায় বসে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।
একপর্যায়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাজপথে শুয়ে পড়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কি এভাবে আচরণ করা হয়? তিনি এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন বলে আখ্যা দেন এবং ঘোষণা করেন যে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এক চুলও নড়বেন না।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যরা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে কার্যত টেনেহিঁচড়ে বাসে তোলেন এবং থানায় নিয়ে যান।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন