বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভী আর নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভী আর নেই

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, বরেণ্য সাহিত্যিক ও দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা লখনৌর মুহতামিম মাওলানা ড. সাঈদুর রহমান আজমি নদভী ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতায় ভুগে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৯১ বছর।

তার ইন্তেকালের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতসহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক শিক্ষাঙ্গনে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ইসলামি শিক্ষা বিস্তার, আরবি ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধন এবং ইসলামি সাহিত্য সাংবাদিকতায় অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন।

মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভী বহু দশক ধরে ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার শিক্ষা ও প্রশাসনিক শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব স্বকীয় শিক্ষাধারা ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে তা আধুনিক যুগে এগিয়ে নিতে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

আনুমানিক ১৯৩৫ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের মউ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এই বিদগ্ধ আলেম।

তিনি ১৯৫২ সালে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষার উদ্দেশ্যে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন।

সেখানে শতাব্দীর অন্যতম শীর্ষ ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী হাসানি নদভীর সান্নিধ্যে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে ইলমি ও রুহানি শিক্ষা অর্জন করেন।

আরবি ভাষা ও সাহিত্যে তার পান্ডিত্য ছিল বিশ্বনন্দিত।

শিক্ষকতা ও ইসলামি গবেষণার পাশাপাশি লেখক, সাহিত্যিক ও প্রভাবশালী আলোচক হিসেবে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। নদওয়াতুল উলামা থেকে প্রকাশিত ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক আরবি মাসিক ম্যাগাজিন ‘আল-বায়সুল ইসলামী’-র সাথে তিনি দীর্ঘকাল নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ঐতিহাসিক এই পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের গুরুদায়িত্বও পালন করেন।

ধারাবাহিক মৌলিক লেখালেখি ও সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি আরবি ভাষা, গবেষণাধর্মী ইসলামি জ্ঞান এবং নদওয়ার মধ্যপন্থী চিন্তাধারা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরেন।

শিক্ষাসেবা ও গবেষণায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি দেশ-বিদেশে নানা বিরল সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

২০১৯ সালে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি.লিট. ডিগ্রি প্রদান করে।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের মে মাসে শিক্ষা, গবেষণা ও সাহিত্যের অঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জয়পুরের জামিয়া হিদায়া তাকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করে।

তার মৃত্যুতে ভারত, বাংলাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষস্থানীয় আলেম, গবেষক, শিক্ষক ও অগণিত শিক্ষার্থীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।